Published : 22 Aug 2026, 05:08 PM
প্রিমিয়ার লিগে কয়েক মৌসুমে আর্সেনালের পরিচয় হয়ে উঠেছিল কেবলই শিরোপা প্রতিন্দ্বন্দ্বী দল হিসেবে, যারা শেষ পর্যন্ত খেই হারিয়ে ফেলে। গত মৌসুমে দৃশ্যপট বদলে দেয় তারা, ২২ বছরের খরা ঘুচিয়ে উঁচিয়ে ধরে লিগের ট্রফি। এবার তাদের সামনে শিরোপা ধরে রাখার হাতছানি। তবে বিষয়টিকে এভাবে না দেখে গতবারের মতোই শিরোপার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে চান দলটির অধিনায়ক মার্টিন ওদেগোর।
আর্সেনালের এমিরেটস স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখে এখন সোনালী অক্ষরে লেখা চ্যাম্পিয়নস। দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সমর্থকরাও যেন হারানো বিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। মৌসুমে এখন পর্যন্ত তাদের দুটি ম্যাচেই তার প্রতিফলন স্পষ্ট।
খেলোয়াড়রা মাঠে নামার সময় আর্সেনাল সমর্থকরা সমস্বরে ‘ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন’ আওয়াজ তোলে। আর মাঠে আধিপত্য করছে ওদেগোর ও তার সতীর্থরা। গত রোববার এফএ কমিউনিটি শিল্ড ট্রফি জয়ের ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে তারা উড়িয়ে দেয় ৩-০ গোলে। একই ব্যবধানে জিতে শুরু করেছে লিগের পথচলা।
ঘরের মাঠে শুক্রবার কভেন্ট্রি সিটিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে একে একে বল পাঠান কাই হাভার্টজ, বুকায়ো সাকা ও মার্টিন ওদেগোর। ২৫ বছর পর শীর্ষ লিগে ফেরা কভেন্ট্রি চ্যাম্পিয়নদের কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি।
পরে ওদেগোর জানালেন, লিগে গত মৌসুমের সাফল্য কিভাবে তার দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
“শিরোপা ধরে রাখতে হবে- আমাদের মধ্যে এমন অনুভূতি কাজ করছে না। বরং আমরা আবারও জিততে চাই, এটাই সবার মনোভাব।
“গত মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। আমরা আবারও সেটা করতে চাই এবং আমরা (লক্ষ্য ছুঁতে) আক্রমণ করতে এবং এটার জন্য লড়াই করতে চাই।”
আসরের নবাগত দলের বিপক্ষে লড়াই কখনোই সহজ নয়। সেটা ভালোমতোই জানা আর্সেনালের। এক্ষেত্রে পাঁচ বছর আগে দলটির তিক্ত অভিজ্ঞতাও আছে; ২০২১ সালে আসরের শুরুতে তারা হেরেছিল ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে।
তবে মিকেল আর্তেতার কোচিংয়ে বদলে গেছে আর্সেনাল। টানা তিন মৌসুমে রানার্সআপ হওয়ার পর, গতবার তারা জিতে লিগ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ফাইনালেও উঠেছিল দলটি, যদিও হেরে যায় পিএসজির বিপক্ষে।
কভেন্ট্রির বিপক্ষে জয়টা কোচ হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে আর্তেতার ১৫০তম; প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে ২৫০ বা তার কম ম্যাচ খেলে ১৫০ জয় পাওয়ার পঞ্চম কোচ আর্তেতা। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন পেপ গুয়ার্দিওলা, জোসে মরিনিয়ো, ইয়ুর্গেন ক্লপ ও স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।
দলের দাপুটে জয় এবং ব্যক্তিগত এই কীর্তির পরও আর্তেতা আগের মতোই আছেন শান্ত। দারুণ সময়ের মাঝেও তিনি ভাবছেন, কঠিন সময় আসলে কী করবেন।
“যখন আমরা ০-০ থাকব এবং হয়তো যখন কোনো ম্যাচ হারব, তখন আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, সেটা দেখার ব্যাপার।
“আজ ম্যাচের শুরুতে দুটি গোল পাওয়ায় অবশ্যই সবাইকে এভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে। তবে আমার মনে হয়, অতীতে আমরা সবাই এটাও শিখেছি যে ওই বিষয়টাও দলকে সাহায্য করে।”