Published : 10 Aug 2025, 05:19 PM
প্রথমার্ধে দক্ষিণ কোরিয়ার চোখে চোখ রেখে লড়ল বাংলাদেশ। শুরুতে এগিয়েও গেল। একটু পর গোল হজম করলেও, সমতার স্বস্তি নিয়ে গেল বিরতিতে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সময় গড়ানোর সঙ্গে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়ার আধিপত্য বাড়তে থাকল। তাদের প্রাণশক্তি, দক্ষতার সঙ্গে পেরে উঠল না বাংলাদেশ।
লাওস জাতীয় স্টেডিয়ামে রোববার বাছাইয়ে ‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৬-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বাছাই শুরু করা বাংলাদেশ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তিমুর লেস্তেকে ৮-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ পিটার জেমস বাটলারের দলের এখনও অবশ্য মূল পর্বে যাওয়ার আশা বেঁচে আছে, তবে সেটা জটিল সমীকরণে।
আট গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা তিন রানার্সআপ পাবে থাইল্যান্ডের মূল আসরে খেলার টিকেট।
তিমুর লেস্তেকে ৯-০ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে শুরু করা দক্ষিণ কোরিয়া লাওসের বিপক্ষে জয় পায় ১-০ গোলে। বাংলাদেশকে হারিয়ে টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে মূল পর্বে উঠল তারা।
গ্রুপ সেরা হতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ড্রই যথেষ্ট ছিল বাংলাদেশের।
দ্বিতীয় মিনিটে দারুণ একটা সুযোগ কড়া নাড়ে দুয়ারে। সতীর্থের লং পাস ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন সাগরিকা, কিন্তু বলে স্পর্শ জোরে হওয়ায় শট নিতে পারেননি তিনি।
চতুর্দশ মিনিটে তৃষ্ণা রানী বক্সের ঠিক ওপরে বল পেয়েছিলেন, কিন্তু দুই ডিফেন্ডারের বাধা পার হতে ব্যর্থ হন তিমুর লেস্তের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এই ফরোয়ার্ড।
পরের মিনিটেই তৃষ্ণা এগিয়ে নেন দলকে। বক্সে ঢুকে গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে আড়াআড়ি পাস বাড়ান শান্তি মার্দি, বল গোলকিপারের গ্লাভস ছুঁয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর আলতো টোকায় জালে জড়িয়ে দেন তৃষ্ণা।
অষ্টাদশ মিনিটে চো হেইওং ভালো পজিশনে বল পেয়েও উড়িয়ে মারেন, এর পরের মিনিটেই সমতায় ফেরে দক্ষিণ কোরিয়া। বাম দিক থেকে আসা আক্রমণ আটকাতে পোস্ট ছেড়ে কিছুটা এগিয়েছিলেন স্বর্ণা রানী মন্ডল। সতীর্থের পাস ধরে ফাঁকায় থাকা লি হায়েউন সহজেই খুঁজে নেন জাল।
একটু পর জিয়ং জিওনের শট আটকে বাংলাদেশের ত্রাতা স্বর্ণা। চোট পাওয়া শান্তিকে ২৪তম মিনিটে তুলে বন্যা খাতুনকে নামান পিটার জেমস বাটলার।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সাগরিকার বাম পায়ের শট সরাসরি যায় গোলকিপারের কাছে। বিরতির বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার আরেকটি প্রচেষ্টা আটকে বাংলাদেশকে সমতায় রাখেন স্বর্ণা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া। বাম দিক দিয়ে ওঠা আক্রমণ আটকাতে ডিফেন্ডারা সবাই মনোযোগী হওয়ায় ডান প্রান্ত ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান চো হেইওং। সতীর্থের পাস ধরে অনায়াসে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। বাংলাদেশেরও পথ হারানোর শুরু।
৫৭তম মিনিটে স্বর্ণার দৃঢ়তায় ব্যবধান বাড়েনি। থ্রু পাস ধরে চো হেইওং একা পেয়ে গিয়েছিলেন স্বর্ণাকে। বাংলাদেশ গোলকিপার দারুণ ক্ষিপ্রতায় ছুটে এসে পথ আগলে দাঁড়ান, তাতে দক্ষিণ কোরিয়া অধিনায়ক পারেননি শট পোস্টে রাখতে।
তিন মিনিট পর অবশ্য চো হেইওংই বাম দিক দিয়ে ঢুকে নিখুঁত শটে স্কোরলাইন করেন ৩-১।
সফল স্পট কিকে ৮৭তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ানো লি হায়েউন একটু পর হেডে আবারও জাল খুঁজে নেন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দক্ষিণ কোরিয়াকে ষষ্ঠ গোল এনে দেন জিন হাইয়েরিন।