এনবিআর থেকে আলাদা হওয়ার পর রাজস্ব নীতি বিভাগের দায়িত্বে কারা আসবেন, আন্তঃক্যাডার বিরোধের সমাধান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সংরক্ষণই বা কীভাবে হবে- এসব আলোচনা চলছে।
Published : 05 Apr 2025, 12:59 AM
রাজস্ব আহরণ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য ধরে এনবিআর দুই ভাগ হচ্ছে; যা বাস্তবতার মুখ দেখলে রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষ সংস্থাটির পাঁচ দশকের পুরনো কাঠামো নতুন রূপ পাবে।
এতে রাজস্ব আহরণ ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা পরিপালন সম্ভব হবে কি না, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের দিক থেকে আসা অভিযোগের নিরসন কতটা সম্ভব হবে, বিনিয়োগের পরিবেশ কতটুকু বাড়বে বা কমবে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।
রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে নতুন কাঠামো গড়ে তোলার সরকারি এ পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে এও আলোচনা আছে যে এতে কী কেবল কিছু লোকের পদায়ন ও ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ বাড়বে না কি দেশের লাভ হবে?
রাজস্ব নীতিতে কারা আসবেন, আন্তঃক্যাডার বিরোধের সমাধান কীভাবে হবে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলে বাজেটের মত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সংরক্ষণই বা কীভাবে হবে- তা নিয়েও কথা হচ্ছে।
আবার আগের মত বর্তমান সরকারের এ সিদ্ধান্তও কাগজে-কলমেই থেকে যাবে না কি ‘যেই কথা সেই কাজের’ মত চর্চার নতুন দিগন্তের দেখা মিলবে সেটিও আলোচনার খোরাক যোগোচ্ছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে।
রাজস্ব প্রশাসন সংস্কারের বিষয়টি নব্বইয়ের দশকে আলোচনায় আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবসায়ী মহল, সামষ্ঠিক অর্থনীতির বিশ্লেষক ও বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর বর্তমান মডেল থেকে সরে আসার তাগিদ দিয়ে আসছিলেন।
তাদের পরামর্শ ছিল রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আলাদা করা, অবশেষে তা আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার বরাতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এনবিআরকে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুই ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি হবে।
“আগামী জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। যত দ্রুত সম্ভব এটা কার্যকর করব। আমরা সে দিকেই আগাচ্ছি। শুরুটা করতে হবে এবং বিবাদ যা থাকবে সে জায়গাটা আমরা পরে ঠিকঠাক করব।”
তবে ‘এনবিআরকে ভাগ করা’ হিসেবে না দেখে বরং রাজস্ব নীতি ও প্রশাসন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাধীনভাবে আলাদা করার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
কেন বর্তমান কাঠামোর মধ্যে আলাদা নীতি ইউনিট করেও কাজ হত না, সেটির ব্যাখ্যায় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এনবিআরকে ভাগ করা হিসেবে যদি দেখা হয়, তাহলে কিন্তু লাভ নাই। এখানে আইডিয়াটা ছিল- পলিসিটাকে আলাদা করা, পৃথকীকরণ।
“এনবিআরকে সম্পূর্ণভাবে কর প্রশাসন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে তার একমাত্র দায়িত্ব হবে কর নীতি বাস্তবায়ন করা। নীতি নির্ধারণ করা তার দায়িত্ব হবে না। এখন যদি এনবিআরের মধ্যেই আলাদা নীতি ইউনিট করে দেন এবং যে নীতি ইউনিট ওই এনবিআর চেয়ারম্যানের অধীনেই থাকবে তাহলে তো পুরো আইডিয়াটাই মারা যাবে ওখানে।”
গত ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশের হাল ধরা অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এনবিআর সংস্কারে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) পাঁচ সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে।
প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা এনবিআরের সাবেক দুই চেয়ারম্যান, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও আদায়ের শুল্ক ও আয়কর ক্যাডারের দুইজন সাবেক সদস্য, যারা সংশ্লিষ্ট ক্যাডার থেকে এসেছেন, তাদের এ কমিটিতে রাখা হয়।
ডিসেম্বরে রাজস্ব খাত সংস্কার বিষয়ক এ কমিটি অর্থ উপদেষ্টার কাছে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ নামে আলাদা বিভাগ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়।
স্বচ্ছ ও উন্নয়নবান্ধব রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ে ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ পুনঃপরিবর্তন করে এনবিআর ও আইআরডি পুনর্গঠন প্রয়োজন বলেও তুলে ধরা হয় কমিটির প্রস্তাবে। উপদেষ্টা পরিষদ বিষয়টি নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে।
অধ্যাদেশ কত দূর?
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদের নেতৃত্বে সাবেক চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ, সাবেক সদস্য (কর) মো. দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সদস্য (শুল্ক) ফরিদ উদ্দিন ও সাবেক সদস্য (কর) আমিনুর রহমানকে নিয়ে গত ৯ অক্টোবর পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়।
অর্থ উপদেষ্টার কাছে দেওয়া কমিটির প্রতিবেদনে রাজস্ব প্রশাসন ও নীতি বিভাগ পৃথকীকরণের যৌক্তিকতায় বলা হয়েছে, “কর নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন কাজ একই সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ওপর ন্যস্ত থাকায় নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে আপসকামিতা, দুর্নীতি, নানা অনিয়ম ও স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ আসছে।
“গুরুত্বপূর্ণ দুটো কাজ একটি প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে করতে হয় বিধায় নীতি-নির্ধারক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নীতি প্রণয়নে বেশি সময় দিতে হয়। এতে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় হচ্ছে না এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারছে না।”
বর্তমান কাঠামোতে ‘অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব এনবিআর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় কর নীতি, কর আহরণ, করদাতাদের সেবা সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না’ বলেও তুলে ধরা হয়।
এনবিআরকে দুই ভাগ করার পর সেখানে কারা দায়িত্বে থাকবেন এবং কী কী কাজ হবে তাও তুলে ধরেছে কমিটি।
এরপর আয়কর ও কাস্টমস শাখার ২৫-৩০ জন কর্মকর্তা নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা করার আইনি কাঠামো খতিয়ে দেখে অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করেছেন।
যেভাবে দুই ভাগ হচ্ছে এনবিআর
বর্তমানে এনবিআর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিলেট ট্রাইব্যুনাল এবং ট্যাক্সেস আপিলেট ট্রাইব্যুনাল আইআরডির অধীনে রয়েছে।
আইআরডির সচিব বা সিনিয়র সচিব হিসেবে যিনি থাকেন তিনিই পদাধিকারবলে এই চারটি দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এখন রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পৃথক করে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি ও কার্যকর করতে বিদ্যমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আদেশ ১৯৭২ রহিত করে অধ্যাদেশ জারির প্রয়োজন হবে।
অধ্যাদেশ উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হলে নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ সৃষ্টি করতে রুলস অব বিজনেস (অ্যালোকেশন অব বিজনেসসহ), উভয় ক্যাডারের ক্যাডার রুলস সংশোধন এবং বিভাগ দুটির সাংগঠনিক কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।
অধ্যাদেশের খসড়ায় দেখা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি বিভাগ কাজ করবে। দুই বিভাগের সচিব হবেন আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের ন্যূনতম ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকা কর্মকর্তারা। পালাক্রমে দুই বিভাগে দুই ক্যাডারের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ দায়িত্ব পালন করবেন।
এনবিআরের বর্তমান কাঠামো তখন রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে কার্যক্রম চালাবে।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের মূল কাজ হবে- নীতি বিভাগ প্রণীত আয়কর, ভ্রমণ কর, দান কর, সম্পদ কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্ক, সারচার্জ আইন ও বিধি প্রয়োগের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা। পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পদ্ধতিগত বিধিমালা প্রণয়ন, ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাজেট প্রণয়ন, বাজেট বাস্তবায়ন ও লজিস্টিকস সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত চুক্তি আলোচনা, সম্পাদন ও মতামত দেওয়া; আন্তর্জাতিক দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা; আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন; রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রমের দক্ষতা, কার্যকারিতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্বে থাকবে ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আয়কর আপিল এবং কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট আপিল অফিস এ বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে।
অপরদিকে রাজস্ব নীতি বিভাগের মূল কাজ হবে- আয়কর, ভ্রমণ কর, দান কর, সম্পদ কর, শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্ক, সারচার্জ এবং শুল্ক-কর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন ও বিধি প্রণয়ন, সংশোধন ও এসবের ব্যাখ্যা দেওয়া।
এছাড়া শুল্ক-কর আরোপ ও অব্যাহতি সংক্রান্ত কার্যক্রম, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী অন্য কার্যক্রম এবং সরকারের দেওয়া অন্য যে কোনো দায়িত্ব পালন করবে এই বিভাগ।
রাজস্ব নীতি প্রণয়নে রাজস্ব নীতি বিভাগকে পরামর্শ দিতে অর্থনীতিবিদ, রাজস্ব বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অংশীজনদের প্রতিনিধিত্বে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটির কার্যপরিধি রাজস্ব নীতি বিভাগ নির্ধারণ করবে।
এছাড়া কাস্টমস, এক্সাইজ এবং ভ্যাট আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং আয়কর আপিল ট্রাইব্যুনাল রাজস্ব নীতি বিভাগের সংযুক্ত দপ্তর হবে।
আলাদা হওয়া কেন প্রয়োজন?
ব্যবসায়ীরা মনে করেন বর্তমান কর আইন বিনিয়োগবান্ধব নয়। অন্যদিকে এনবিআরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্বের সংগ্রহে মনোযোগ দেওয়ার কারণে নীতির ক্ষেত্রটি অবহেলিত। ঘাটতির কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের উপর রাজস্ব সংগ্রহের বড় চাপ থাকত। সেটি আমরা পলিসির উপর ভর করে আদায়ের চেষ্টা করতাম। এতে রাষ্ট্রের বড় ক্ষতি হয়ে গেল।”
সে ক্ষতিটা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি বড় যন্ত্রণা। এজন্য অনেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। আমদের এখানে সুশাসনের অভাব। অনেক আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগে শৈথিল্য আছে।
“করজাল ছোট এটাও সঠিক নয়। কর কম দেয় এটাও ঠিক নয়।”
বর্তমান কাঠামোতে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা রাখা হয় বলে দাবি করেন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি মনে করেন, ইচ্ছা করেই এই অস্পষ্টতা রাখা হয়।
তার ভাষায়, “অস্পষ্টতা দিয়েই অপব্যাখ্যা দেবে, দিয়ে যাকে যখন যেভাবে ধরা দরকার, ধরবে। খাওয়ার দরকার, খাওয়ার ব্যবস্থা করবে। ওই খাওয়ার জায়গাটা ওরা স্পষ্ট করে না। ফলে এই জায়গাটায় আমাদের সমস্যা হয়।”
বর্তমান কর আইনকে ‘বিনিয়োগের পরিপন্থি’ আখ্যা দিয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ট্যাক্সেশন সিস্টেমটা যেটা আছে একেবারেই, আমি বলব, অন্যায়, বেআইনি একটা সিস্টেম করে রাখা হয়েছে।
“রীতিমত বলব এটা ট্যাক্সের টাকা লুটপাটের জন্য ওখানে অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু আইন তৈরি করে রাখা হয়েছে।”
এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন রাজস্ব নীতিকে আলাদা করার তিনটা কারণ তুলে ধরেন।
তার মতে, শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত এমন কতগুলো নীতি রয়েছে যেগুলো আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কতগুলো অস্বাভাবিক নীতি ঢুকে পড়েছে যেগুলো সংশোধন করা দরকার।
দ্বিতীয়টি হল- কর নীতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না তা এনবিআর একা করলে বোঝা যায় না। এনবিআরের নীতির প্রধান লক্ষ্য থাকে রাজস্ব আদায়। কিন্তু নীতি তো শুধু রাজস্ব আদায়ের জন্য হবে না। নীতি হতে হবে রাজস্ব ও বিনিয়োগ- দুটোর জন্যই। তাছাড়া এ নীতি হবে ভোক্তা বান্ধব।
তৃতীয় কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অভিযোগ আছে এনবিআরের লোকেরা বিশেষ গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের পক্ষে কাজ করেন। যা করা দরকার সেটা করে না। অর্থাৎ সমঝোতা করেন।
কারা থাকবেন, প্রধানের যোগ্যতা কী হবে?
এনবিআর দুই ভাগে বিভক্ত হলে কোন বিভাগে কারা থাকবেন ও কাজ করবেন সেটিও তুলে ধরেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান। তিনি বলেন, বাইরের কিছু বিশেষজ্ঞও থাকবেন, বিশেষ করে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও গবেষণা ক্ষেত্রের কিছু লোক থাকবেন।”
তবে এনবিআরের আয়কর ও শুল্ক ক্যাডারের কর্মকর্তারাই মূলত এ কাজগুলো করবেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
আবদুর রহমান বলেন, “রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় যারা অভিজ্ঞ তারাই মূলত এ কাজগুলো করবেন। তার সঙ্গে অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে অন্যরা থাকবেন। আমরা নৈর্ব্যত্তিকভাবে কোনো কিছু না দেখে আইনে যা আছে, এটা আমরা প্রয়োগ করতে পারব। আরো বেশি সময় দিতে পারবে।”
এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে পরার্শক কমিটির সদস্য ও এনবিআরের সাবেক সদস্য (শুল্ক) ফরিদ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বলেছি, পলিসি চলে যাবে আলাদা জায়গায়। সেটা আইআরডিতে হোক আর যেখানেই হোক।
“ওটা একটা আলাদা ডিভিশন হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে।”
যেহেতু এটা ব্যবহারিক কাজ, তাই প্রশাসনের চৌকস কর্মকর্তাকে দিয়েও হবে না বলে তিনি মনে করছেন।
রাজস্ব নীতি বিভাগে কেন শুল্ক ও আয়কর ক্যাডার থেকেই কর্মকর্তা নিতে হবে তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “ইঞ্জিনিয়ারের কাজটা তো ফিলোসফারকে দিয়ে করাইতে পারবেন না। ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়েই করাতে হবে। এনবিআরের কাজটাও তাকে দিয়েই করাতে হবে।”
তবে রাজস্ব নীতি সরকারের সামগ্রিক উন্নয়ন নীতির সঙ্গে, আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কি না সেটি নিশ্চিত করতে উপদেষ্টা কমিটি (অ্যাডভাইজরি কমিটি) রাখার কথা বলেছেন তিনি।
ফরিদ উদ্দিন বলেন, সে উপদেষ্টা কমিটিতে দেশের নামী অর্থনীতিবিদ, বোদ্ধা ব্যবসায়ী নেতা, ট্যারিফ কমিশন, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, স্বায়ত্তশাসিত বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের প্রতিনিধি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি যদি থাকেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন।
রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান যিনি হবেন তার যোগ্যতা কী হবে সে বিষয়ে খসড়া অধ্যাদেশে একটা প্রস্তাব দেওয়া হলেও এ বিষয়ে নীতিমালার ক্ষেত্রে জোর দিয়েছে পরামর্শক কমিটি।
আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে নীতিমালা করার প্রস্তাব দেওয়ার কথা তুলে ধরে এনবিআরের সাবেক এই সদস্য বলেন, শুল্ক, ভ্যাট ও আয়কর ক্যাডারের যারা সচিবালয়ে গেছেন বা এনবিআরে আছেন অথবা রাজস্ব নীতি প্রণয়ন বিষয়ে যাদের জ্ঞান আছে তাদের কাউকে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সে দেশে এ বিষয়ে আইন আছে। সে আইনে রাজস্ব বিভাগের প্রধানের কী কী গুণাবলী ও যোগ্যতা থাকতে হবে তা বলা আছে। ওই যোগ্যতা যাদের থাকবে তিনিই আবেদন করতে পারেন। তাদের টেকনিকেল কমিটি আছে যারা আবেদনকারীদের মধ্য থেকে বাছাই করে উপরের দিকে চার-পাঁচজনকে মনোনীত করেন। তাদের সাক্ষাৎকার নেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলের প্রধান। এভাবে যাচাই-বাছাই করে যাকে যোগ্য পায় তাকে নিয়োগ করে।
এ পদ্ধতি স্বচ্ছ ও সবচেয়ে ভালো মন্তব্য করেন ফরিদ উদ্দিন বলেন, “আমরা সেরকম একটা প্রস্তাব করেছিলাম এখানে।”
তিনি বলেন, “আর পলিসি ডিভিশনে লোক যাবে এনবিআর থেকে। ওখানে গেলে তাদের পদবি সচিবালয়ের মত হবে, না গেলে যেভাবে আছে সেভাবে হবে।”
এই কর্মকর্তারা স্থায়ীভাবে থাকবেন না এবং এর ফলে দুর্নীতির সুযোগও থাকবে না মন্তব্য করে ফরিদ উদ্দিন বলেন, তারা শুধু প্রায়োগিক কাজে সহায়তা দেবেন। মূল নীতি কোনটি হবে বা হবে না সে সিদ্ধান্ত উপদেষ্টা দলসহ সবাই মিলে নেবেন।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বা এনবিআর বিষয়ে তিনি বলেন, সেখানে চেয়ারম্যান আসবেন সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে।
পরামর্শক কমিটির প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই নীতিমালায় যোগ্য, দক্ষ ও সৎ হলে, সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীসহ সবার সমস্যা বুঝবেন, সমন্বয় করে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি উন্নত করতে পারবেন, রাজস্ব বাড়াতে পারবেন, হয়রানি-দুর্নীতি কমাতে পারবেন- এমন কেউ কনিষ্ঠ সদস্য হলেও চেয়ারম্যান হতে পারবেন।
যা বলছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা
এনবিআর থেকে রাজস্ব নীতি বিভাগকে আলাদা করার বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, তাদের জবাবদিহির জায়গা তো স্পষ্ট করতে হবে। যদি এনবিআরের কাছে জবাবদিহি হয়, তাহলে তো আর পৃথকীকরণ হল না। কাজেই এখানে সম্পূর্ণভাবে আলাদা বিভাগ করতে হবে, এটা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে। এনবিআরের অধীনে না।
“তারপরে তারা সিদ্ধান্ত নেবে কোন পদে কোন ধরনের লোকজন থাকবে, এখানে কোনো অ্যাডভাইজরি কমিটি থাকবে কি না, বাইরের লোকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে কি না, এগুলো বিস্তারিত করার ব্যাপার।
“সেখানে যদি আমরা সঠিকভাবে করতে না পারি, সত্যিকারের পৃথকীকরণ যদি না হয়, এটা যদি এনবিআরের আরেকটা বিভাগ হিসেবে কাজ করে তাহলে পলিসি আর অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আলাদা হল কীভাবে?”
প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ বিষয়ে তিনি বলেন, “যোগ্য, দক্ষ লোক থাকলে তাদের তো ওখানে নিয়োগ পেতে অসুবিধা নাই।”
নীতি প্রণয়ন কাঠামোতে নিয়োগের জন্য যথাযথ মানদণ্ড ঠিক করতে হবে তুলে ধরে জাহিদ হোসেন বলেন, “সেখানে যেই এই যোগ্যতা কোয়ালিফাই করে সে কাস্টমসের লোক হোক বা প্রশাসনের লোক হোক সেখানে তো ঢুকতে পারবে।”
এছাড়া রাজস্ব নীতিতে যারা থাকবেন তাদের কখনোই বাস্তবায়নে দেখতে চান না ব্যবসায়ী নেতা ও কর পরামর্শকরা।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তারা সব সময়ই বলে আসছেন, যারা নীতি প্রণয়ন করবেন তারা প্রয়োগে থাকবেন না।
“তখন তারা পলিসিটা দেবে পারফেক্টলি এবং এই সমস্ত জায়গায় যে সমস্যা হতে পারে সেগুলো সমাধান করে দেবে। কোন অস্পষ্টতা থাকবে না- বিষয়টা এরকম।”
এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের কর সংগ্রহের প্রশাসনিক কাজে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা আছে কেবল তাদের রাজস্ব নীতি শাখায় স্থানান্তর করা উচিত এবং এসকল কর্মকর্তা যেন পুনরায় কর প্রশাসনে (মাঠ পর্যায়ে) ফেরত না যায় সে বিধান করা উচিত।
“এছাড়াও শিল্প বিশেষজ্ঞ, সনদধারী হিসাববিদ, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ ও আইটি বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক রাজস্ব নীতি বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।”
আলাদা করার আলোচনা যেভাবে
আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ১৯৯৩ সালে এনবিআরের নীতি ও প্রশাসন দুটোকে আলাদা করার জন্য বলেছিল। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিশ্ব ব্যাংকও চাপ দিয়েছিল।
তখন তিনি এনবিআর সদস্য ছিলেন জানিয়ে ফরিদ উদ্দিন বলেন, “রাজস্ব বোর্ডের নীতি বিভাগকে আলাদা করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কার্যালয়ে নেওয়ার আদেশ করা হয়েছিল। সেটা কিন্তু সরকারি আদেশ ছিল এবং এখনও আছে। পরিবর্তন হয়নি, বাতিলও হয়নি।”
রাজস্ব নীতি বিভাগ তখন আলাদা না হওয়ার কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও জায়গার অভাবে হয়নি। আলাদা একটা জায়গা চেয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখলেও তারা সাড়া দেয়নি। পরে আর কোনো কাজ এগোয়নি।
২০০৯ সালে সংসদে অনুমোদন দেওয়া হলেও এনবিআর সংস্কার হয়নি তুলে ধরে সংস্থার সাবেক এই সদস্য বলেন, “সংস্কার করার দায়িত্ব কার ছিল? পরবর্তী সময়ে যারা চেয়ারম্যান, মন্ত্রী ছিলেন, গভর্মেন্ট ছিল তাদের ছিল না? তাহলে কি আমরা এনবিআরের লোকদের ব্লেইম দিতে পারি?
“আমি প্রকাশ্যে জাতির সামনে যে কাউকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, দায় ছিল যাদের তারা এটা করে নাই।”
জটিলতা কোথায়?
এনবিআরকে আলাদা করলে কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে সে বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
উপদেষ্টা কমিটি রাখলে আইন প্রণয়নে কালক্ষেপণ হবে কি না, বড় একটা টিম থাকলে বাজেটসহ শুল্ক ও ভ্যাট বিষয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়া বা বিভাগের মর্যাদা পেলে পরবর্তীতে আবার প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা নেতৃত্বে চলে আসতে পারে কি না সেটি নিয়েও কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, “ওটার জন্য রক্ষাকবচ তৈরি করতে হবে।”
কেউ যেন তথ্য প্রকাশ করতে না পারে সে জন্য চুক্তিসহ প্রয়োজনীয় পদ্ধতি দাঁড় করানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা পদ্ধতি তৈরি করে তা প্রয়োগ করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, তাহলে কি সবকিছু একজনের কাছেই গচ্ছিত থাকতে হবে, সেই বির্তক থাকতে পারে।
তথ্য প্রকাশ হয়ে যেতেই পারে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাজেট বক্তৃতা কোথাও আগে প্রকাশের কথা নয়। কিন্তু দেখা যায় দুইদিন আগেই তা সংবাদমাধ্যমে চলে আসছে। কার সাথে আপনি কোন ধরনের তথ্য ভাগাভাগি করবেন, এটা তো নির্ভর করা উচিৎ কার কোনটা জানা দরকার তার ওপর। যার যেটা জানার দরকার নেই তাকে তা জানাবেন না।
“আমার কাজের জন্য আমার যে তথ্যটুকু জানা দরকার সে তথ্যটুকু আমাকে পাঠিয়ে বিশ্বাস করতেই হবে।”
আমলা ও উপদেষ্টা কমিটি একত্রে কাজ করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে কি না এমন প্রশ্নে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “সেজন্য তো পারমানেন্ট একটা ডিভিশনই থাকবে। উপরের পর্যায়ে কোনো পলিসি পরিবর্তন বা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যাডভাইজরি কমিটির একটা ভূমিকা থাকবে। কিন্তু প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তো তাদের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।”
আইনজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, “শিল্প বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কাজের পরিধি বা একটি টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) থাকতে হবে। সেই টিওআরে গোপনীয়তা সম্পর্কিত একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দীন আহমেদ বলেন, তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেখানে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা রাজস্বে আসার সুযোগ নেই। এখানে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর ক্যাডারের কর্মকর্তারাই আসবেন। প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা আসতে পারবেন না।
“এর আগে কী হয়েছে না হয়েছে, সে বিবেচ্য নয়। এরপর কিছু করলে সরকার করবে, আমাদের কিছু করার নাই। এতে অনেক ডিস্টরশন, অনেক কিছু কমে যাবে। রাজস্ব আহরণে সুবিধা হবে।”
নীতি প্রণয়ন সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়বে কি না জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, “দেরি হবে কেন? দেরি হওয়ার তো কোনো কারণ নাই। এটা তো তিন মিনিটের কাজ।”
শক্তিশালী গবেষণা শাখা থাকার বিষয়ে তারা সুপারিশ করেছে তুলে ধরে পরামর্শক কমিটির এই সদস্য বলেন, গবেষণা শাখাকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে, যারা কর নীতি নিয়ে গবেষণা করে। গবেষণা শাখা সারা বছর গবেষণা করবে। নীতি প্রণয়নের কাজ এখন যেমন জুন মাসের জন্য তিন মাসে করে ফেলে, তখন তাড়াহুড়োর কোনো বিষয় থাকবে না।
তিনি বলেন, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নীতি বিভাগ ঠিক করবে। রাজস্ব আদায়ের জন্য নীতি বিকৃত করা যাবে না।
এনবিআরের নীতি শাখাকে আলাদা করে বিভাগের মর্যাদা দেওয়া হলে আইনের ব্যত্যয় হবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “কী ব্যত্যয় হবে। সংবিধান না কি এটা? সংবিধানই তো সংশোধন হতে যাচ্ছে আর আপনি বলছেন আইন। রুলস অব বিজনেস কোনো আইন না। আর যা হবে এগুলো সাধারণ সংশোধন।”