সুনামগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যায় ফার্মেসি মালিকের মৃত্যুদণ্ড
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, প্রবাসীর স্ত্রীর অর্থের লোভে তাকে চেতনানাশক খাইয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন আসামি।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় আসামি জিতেশ চন্দ্র গোপকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন বলে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম শেফু জানান।
দণ্ডিত জিতেশ চন্দ্র গোপ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার যাদব চন্দ্র গোপ ও অনিতা রানি গোপের ছেলে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসী ছুরুক মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ পারভিন জোছনা পৌর শহরের পৌর ভবনের পেছনের একটি কলোনিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি পৌর শহরের অভি ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে যেতেন। ঘটনার দিন স্বামীর পাঠানো টাকা নিয়ে ওষুধ কিনতে ওই ফার্মেসিতে গেলে এর মালিক জীতেশ চন্দ্র গোপ তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করেন।
জ্ঞান ফেরার পর জোছনা জিতেশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করেন তিনি। পরে বসতঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। পালানোর আগে জোছনার দুই হাত ও দুই পা এবং মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা ব্যাগে ভরে পৌর শহরের একটি ডোবায় ফেলে দেন। এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শেফু বলেন, “প্রবাসীর স্ত্রীর অর্থের লোভে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করেন আসামি। প্রায় সাড়ে চার বছর পর মামলার রায়ে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।
“এ ছাড়া হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টার ঘটনায় তাঁকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “বিষয়টি জেলার আলোচিত ঘটনা। আসামি ধর্ষণের পর ভিকটিমকে ছয় টুকরো করে লাশও গুম করতে চেয়েছিল। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”
