২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এখন উল্টো বিএনপি অফিস ভাঙার মামলায় কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার বৃদ্ধ মা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা মামলা না নেওয়ায় ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন নূরজাহান বেগম।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 01:50 PM

Updated : 28 Sep 2026, 01:50 PM

ছিল জায়গা-জমির বিরোধ। এর জেরে ‘মব’ পরিস্থিতি তৈরি করে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের বাড়িতে একদল লোক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সেই ঘটনায় রুহুল আমিনের মা নূরজাহান বেগম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করতে যান। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন।

মামলা করার পর দিন রোববার পুলিশ ৬৮ বছরের বৃদ্ধ নূরজাহান বেগমকে মামলার বিষয়ে কথা বলতে থানায় ডেকে নেয়। দিন শেষে নূরজাহান বেগমের পরিবার জানতে পারে, তাকে বিএনপি কার্যালয় ভাঙার মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অথচ ওই মামলার আসামিই নন নূরজাহান বেগম। আসামি তার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনকে। পুলিশ বলছে, তারা তদন্তে প্রাপ্ত হয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে নূরজাহানকে গ্রেপ্তার করেছেন।

উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান বেগমের মেয়ে নাসিমা খাতুন ও সেলিনা খাতুন এসব অভিযোগ করেন।

রুহুল আমিন পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের এক নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি। তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এস এম মামুনুর রশীদ বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমীনের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে রুহুল আমীনের মা নুরজাহান বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় আমলি আদালতের বিচারক সানা খাতুন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

বিএনপি কার্যালয়ে (কৃষকদল) মামলার বাদী হয়েছেন হাবিবুর রহমান। তিনি কৃষকদলের নেতা হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গেই আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের পরিবারের জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ আছে বলে জানান নূরজাহান বেগমের মেয়ে নাসিমা খাতুন।

আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের বাড়িতে যেদিন হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে; হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর করা কৃষকদল কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের মামলায়ও একই দিনের কথা বলা হয়েছে।

এই মামলায়, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নলকুলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কৃষকদলের অফিস ভাঙচুর ও ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ৭৫ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

নাসিমা খাতুনের অভিযোগ, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্থানীয় সামাজিক প্রতিপক্ষের শতাধিক লোক ‘আওয়ামী লীগের ট্যাগ’ দিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। তারা রুহুল আমীনের নাম ধরে ডাকাডাকি করে। রুহুল আমিন বেরিয়ে আসলে তাকে আঘাত করা হয়। রুহুল আমিন প্রাণ বাঁচাতে পাটের গুদামে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন সেখানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের কয়েকজন আহত হন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পরের দিন নূরজাহান বেগম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় যান মামলা করতে। কিন্তু থানা মামলা নিতে গড়িমসি করে। উপায়ান্তর না পেয়ে ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা হয়।

নূরজাহান বেগমের ছোট মেয়ে সেলিনা খাতুন বলেন, “রোববার সকালে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার মাকে জিজ্ঞাস করে, আদালতে মামলা করেছেন কিনা? ওসি কথা বলবেন, এজন্য থানায় যেতে হবে। মা তাদের সঙ্গে থানায় যান।

“দুপুরেও মাকে না ছাড়ায় আমরা পুলিশের কাছে কারণ জানতে চাই। তখন পুলিশ বলে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে পাঠানো হবে।”

সেলিনা খাতুন বলেন, “দেখুন, আওয়ামী লীগ করে আমার ভাই রুহুল আমীন। সে এখন পলাতক। ছেলের কারণে বৃদ্ধ মাকেই জেলে যেতে হল। আর থানা মামলা না নিলে আদালতে মামলা করা কি অপরাধ?”

হাবিবুর রহমান কৃষকদলের কোনো পদে আছেন কিনা সেটা জানা যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ দেখায়।