শ্রীমঙ্গলে সমাপ্তি ঘটল কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসবের
শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত এ উৎসবের সমাপনী আয়োজনের উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ।
অহিংস বিশ্ব বিনির্মাণে ভাব সংগীতের ভেলায় চেপে গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানী ঢাকা থেকে যে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের যাত্রা শুরু হয়েছিল, বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে তার সমাপ্তি ঘটল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শুক্রবার শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত এ উৎসবের সমাপনী আয়োজনের উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ও সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ।
উৎসবের সমাপনী আলোচনায় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, “তারেক রহমানের সরকার সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি সংরক্ষণেও কাজ করছে। কবির-লালন ভাবসংগীত উৎসব তার একটি উদাহরণ। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দেশব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজন শেষ নয়, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।”
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ বলেন, “সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সত্য ইতিহাসবোধের গভীর শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে নৈরাজ্য ও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা রুখতে সাংস্কৃতিক জাগরণ প্রয়োজন। কবির ও লালন ফকিরের কালজয়ী ভাবাদর্শ অনুধাবন এবং অনুসরণের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ বলেন, “কবির ও লালনের জীবন এবং বাণী থেকে মানবতার শিক্ষা পাওয়া যায়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানবতা, সহানুভূতি ও আধ্যাত্মিক চিন্তার এক মহামিলন ঘটেছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবির-লালন গবেষক আবেদল মান্নান। তিনি বলেন, “কবির ও লালন ফকিরের কালজয়ী দর্শন, মানবতাবাদী চিন্তা এবং জীবনবোধকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের বাণী ও ভাবাদর্শের চর্চার মধ্য দিয়ে সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি ও আধ্যাত্মিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।”
সমাপনী অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে আসা কবির-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা ভাবসংগীত পরিবেশন করেন। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা-বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী কবিরপন্থি ও রবিদাস সম্প্রদায়ের শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।
লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়। দেশের ছয়টি বিভাগ- বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে উৎসবের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার শ্রীমঙ্গলের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর সমাপ্তি ঘটল।
