গাজীপুরে রাসেলের আসনে নৌকা চান জাহাঙ্গীর

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ২০০৪ সাল থেকে গাজীপুর-২ আসনের এমপি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2023, 11:41 AM
Updated : 22 Nov 2023, 11:41 AM

আগামী সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি গাজীপুর-২ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চান, যে আসনের বর্তমান এমপি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর জাহিদ আহসান রাসেল।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির শেষ দিন মঙ্গলবারে জাহাঙ্গীদের পক্ষে তার প্রতিনিধি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দেন।

ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভাগের ফরম বিক্রির দায়িত্বে থাকা এক নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলও এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি এ আসনের ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জাহাঙ্গীর ২০১৮ সালে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এক ঘরোয়া আলোচনায় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগ উঠলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। মেয়রের পদও তিনি হারান।

পরে হাইকোর্টের এক রায়ে বলা হয়, জাহাঙ্গীরকে বরখাস্তের প্রক্রিয়া ‘আইনানুগ ছিল না’। কিন্তু তার আগেই গত ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। জাহাঙ্গীর স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তা বাতিল হয়ে যায়। পরে নিজের মাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করে মেয়র পদে জিতিয়ে আনেন জাহাঙ্গীর।

ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে’ চলতি বছর তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয় আওয়ামী লীগ।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ থেকে ৩৯ নং ওয়ার্ড এবং ৪৩ থেকে ৫৭ নংসহ মোট ৩৬টি ওয়ার্ড এবং গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গাজীপুর-২ আসন গঠিত। ২০০৮ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এই আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দায়িত্বে আছেন রাসেল।

এর আগে রাসেলের বাবা আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টারের আসন ছিল এটি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে সেবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আহসানউল্লাহ মাস্টার। ২০০১ সালেও তিনি আসনটি ধরে রাখেন।

২০০৪ সালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহসানউল্লাহ মাস্টার নিহত হলে তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। ওই বছরে উপনির্বাচনে বাবার আসনে জিতে এমপি হন রাসেল।