চাহিদার চেয়ে ‘বেশি’ মাছ উৎপাদন হচ্ছে শার্শায়

এখানে বছরে ২৬ হাজার ৭৪২ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু স্থানীয় চাহিদা রয়েছে মাত্র সাত হাজার ৫৭২ মেট্রিকটন।

আসাদুজ্জামান আসাদ, বেনাপোল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 July 2022, 04:36 AM
Updated : 29 July 2022, 04:36 AM

যশোরের শার্শা উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বেশি মাছ উৎপাদন হচ্ছে বলে মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে মাছের পোনা, খাবার ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি এবং আড়তদারদের কাছ থেকে মাছের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন মাছ চাষিরা।

মৎস খাবারের দাম কমিয়ে আনার পাশাপাশি মাছ বিক্রিতে ‘হয়রানি’ বন্ধে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শার্শা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত মাছ পাঠানো হয় অন্যান্য এলাকায়।

মাছ চাষ করে এ উপজেলায় সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার সচ্ছল হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “উপজেলার ১৫টি বাঁওড়, ২৭১টি ঘের, ১০টি বিল ও সাত হাজার ১৬৯টি পুকুর মিলে মোট সাত হাজার ৪১৮ হেক্টর জলাশয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে এই মাছ চাষ করা হচ্ছে।

“এখানে বছরে ২৬ হাজার ৭৪২ মেট্রিকটন মাছ উৎপাদন করা হয়। কিন্তু স্থানীয় চাহিদা মাত্র সাত হাজার ৫৭২ মেট্রিকটন।”

মাছ চাষ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন, বাজারজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণন বিভাগে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে জানান এ মৎস কর্মকর্তা।

শার্শায় প্রধানত দেশি রুই-কাতলার পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল সিলভার কার্প, মিনার কার্প, জাপানি রুই, গ্লাস কার্প, মাগুর, কই, পাঙ্গাস, নাইলোটিকা, তেলাপিয়া ও বাটা মাছ চাষ হয়। তবে ইদানীং চাষিরা পাবদা, শিং, মাগুর ও গুলশা মাছের চাষে লাভ বেশি হওয়ায় সেদিকে ঝুঁকছেন।

উপজেলার চটকাপোতা গ্রামের মাসুম বিল্লাহ ১ একর জলাশয়ে মাছ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন। তিনি দেশি রুই কাতলা ও মৃগেলের পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল সিলভার কার্প, মিনার কার্প, পাঙ্গাস, নাইলোটিকা, তেলাপিয়া, শিং ও মাগুর চাষ করেন ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মাসুম বলেন, “মাছের পোনা, খাদ্য, ওষুধের দাম বাড়লেও মাছের দাম সে অনুপাতে বাড়েনি। মাছ বিক্রির সময় আমরা দাম পাইনে। আড়তদাররা তাদের ‘খেয়াল খুশি মত’ দাম দেয়। এতে আমরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।”

মাছের দাম কমানোর পাশাপাশি খাবার, ওষুধের বাজার ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মৎস্য বিভাগ ও সরকারকে তদারকি করতে হবে বলে মনে করেন এ চাষি।

উপজেলার কায়বা গ্রামের সাইফুল ইসলাম ৫০ শতক জলাশয়ে, আমলাই গ্রামের ছাফিয়া খাতুন ৯৫ শতক জলাশয়ে এবং লাউতাড়া গ্রামের জাহিরুল ইসলাম ৬০ শতক জলাশয়ে মাছ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ছাফিয়া বলেন, “আমি মাছ চাষ করে সংসারে সুখ এনেছি।”

উপলার বড় বসন্তপুর গ্রামের কেএম ফিরোজ মামুন ২০১০ সাল থেকে নিজ গ্রামে মাছ চাষ করছেন। বর্তমানে তিনি ১৫ বিঘার চারটি পুকুরে পাবদা, শিং, মাগুর ও গুলশা চাষ করছেন।

মামুন বলেন, “মাসে সাত হাজার টাকা বেতনে দুইজনকে সার্বক্ষণিক দেখাশুনার জন্য রেখেছি। চারটি পুকুরে মাছের পোনা, খাদ্য, ওষুধ মিলিয়ে গত বছর খরচ হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। আর মাছ বিক্রি করে পেয়েছি প্রায় ২৩ লাখ টাকা।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক