শরীয়তপুরে ঝুঁকিপূর্ণ দুই সেতু দিয়ে চলছে যানবাহন

সেতু দুটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে; গাড়ি উঠলে দুলতে থাকে। এ ছাড়া সরু হওয়ায় সেতুর দুই প্রান্তে যানজট লেগেই থাকে।

কে এম রায়হান কবীরশরীয়তপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 03:52 PM
Updated : 12 Sept 2022, 03:52 PM

শরীয়তপুর শহর থেকে পদ্মা সেতু সংযোগ সড়ক পর্যন্ত পথে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন শতশত যানবাহন চলাচল করছে।

জেলা শহরের কাছে কোটাপড়ার প্রেমতলা এবং জাজিরার কাজীরহাটে এই সেতু দুটির অবস্থান। পুরনো সেতু দুটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো যানবাহন উঠলে সেতু দুলতে থাকে। এ ছাড়া সেতু দুটি সরু হওয়ায় দুই প্রান্তেই যানজট লেগে থাকে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানায়, নতুন করে দুটি সেতু নির্মাণ করতে দুই বছর আগে সরকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। সে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ডিসেম্বরে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জটিলতায় সেতু দুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কে চলাচল করা শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসের চালক আমির মিয়া হোসেন, ফেম গাড়ীর চালক হারুন শেখ জানান, প্রেমতলা সেতুটিতে গাড়ি উঠলেই শিশুদের খেলনার মতো দুলতে থাকে। তখন ভয় লাগে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) শরীয়তপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ভূঁইয়া রেদওয়ানুর রহমান বলেন, কাজীরহাট ও প্রেমতলা সেতু দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ও সরু। প্রকল্প অনুমোদিত হলেও নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনও শেষ করা যায়নি। এ কারণে নির্মাণকাজ আটকে আছে। আর সেতু দুটি নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত শরীয়তপুর জেলাবাসীর দুর্ভোগ কমানো যাচ্ছে না।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলা শহরের ফায়ার সার্ভিস অফিস থেকে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার রাস্তা। শরীয়তপুর জেলার মানুষ এ সড়কটি ব্যবহার করে পদ্মার পাড়ে মাঝির ঘাটে এসে নদী পার হয়ে ঢাকায় যেত।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়ক দিয়েই ঢাকামুখী যানবাহনগুলো চলাচল করছে। ১৯৯১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সদর উপজেলার কীর্তিনাশা নদীতে ১১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের প্রেমতলা সেতু ও জাজিরা উপজেলার কাজির হাট বন্দর এলাকায় মরা কীর্তিনাশা নদীর উপর ৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের কাজীরহাট সেতু নির্মাণ করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতু দুটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সেতুর মেঝের প্লাস্টার ও রেলিং থেকে রড বেরিয়ে গেছে। প্রেমতলা সেতুতে যানবাহন উঠলে সেতু দুলতে থাকে। তখন যাত্রী ও চালকরা আঁতকে ওঠেন।

শরীয়তপুর সওজ বিভাগ ভারী যানবাহন নিয়ে সেতুতে না ওঠার আহ্বান জানিয়ে দুই প্রান্তে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কার্যালয় থেকে আরও জানা গেছে, শরীয়তপুর-পদ্মা সেতু সংযোগ সড়কটি দুই লেনে উন্নীত করতে ২০২০ সালে ১ হাজার ৬৪২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। প্রকল্পের আওতায় শরীয়তপুর জেলা শহরের কোটাপাড়ার প্রেমতলায় ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতু এবং জাজিরা উপজেলার কাজীরহাটে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ৩ মিটার প্রস্থের সেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয় শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই দুটি সেতু নির্মাণ করার জন্য গত বছরের ১ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয় জামিল ইকবাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন সেতু দুটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রেমতলা সেতুর ‘৫০ শতাংশ’ কাজ হলেও কাজীরহাট সেতুর কাজ হয়েছে ‘৩০ শতাংশেরও’ কম। বর্তমানে সেতু দুটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবালের প্রকল্প প্রকৌশলী মো. হাসান আলী বলেন, জমি অধিগ্রহণ জটিলতার জন্য সেতু দুটির কাজ বন্ধ আছে। নদীর অংশের কিছু কাজ তারা করেছেন। কিন্তু সংযোগ সড়কের অংশে স্থানীয় লোকজন জমির অধিগ্রহণের টাকা বুঝে না পাওয়ায় কাজ করতে দিচ্ছে না।

নড়িয়া উপজেলার গাগ্রীজোড়ার বাসিন্দা আলী মিয়া, আজহার দেওয়ান, লিটন খালাসী বলেন, “সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হচ্ছে আমাদের সবাইকে। সেতুতে উঠলেই চরম আতঙ্কে থাকি। এ সেতুদিয়ে দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলতে পারে না।”

কাজির হাট বাজারের ব্যবসায়ী আমিন কাজী ও মিরাজ টেপা বলেন, “আমাদের এ ব্রিজে প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে সপ্তাহে ২ দিন হাটবার। সে সময় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। নতুন ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।”

জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক পারভেজ হাসান বলেন, এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। অনেকগুলো ধাপ পার করে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়। এ জন্য একটু দেরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭ ধারার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ৮ ধারার নোটিশ দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করে জমি শরীয়তপুরের সড়ক ও জনপথকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক