Published : 03 May 2023, 11:58 PM
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় সেতুর রড চুরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে।
এলাকায় ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে কয়েকজনের কথোপকথনে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
তবে বিষয়টি যাচাই করতে ওই আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
৫ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের এই অডিওতে পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ঠিকাদার উত্তম দেব এবং পানছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার মেম্বারের কণ্ঠের মতো দুই ব্যক্তিকে এক অটোরিকশা চালক নাজমুল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে শোনা গেছে।
গত ২৪ মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে রড চুরির বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। ২৬ এপ্রিল নাজমুল হোসেনের বাড়ি থেকে ৭৫৫ কেজি রড উদ্ধার করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় নাজমুলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়।
এ মামলায় কাউকে আটক করা যায়নি।
পানছড়ি উপজেলায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চারটি কালভার্ট দিনে দুপুরে ভেঙে রড নিয়ে যায় একদল লোক। ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসনের একটি দল সরেজমিন তদন্ত করে। এরপর পানছড়ি উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা–পিআইও মো. আব্দুস সালাম বাদী হয়ে থানায় একটি জিডি করেছেন।
রড চুরির ঘটনাটি তদন্তকারী ডিবির ওসি সামসুজ্জামান বলেন, “রড চুরির ঘটনায় নাজমুলের বাড়ি থেকে আমরা ৭৫৫ কেজি রড উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় নাজমুলকে আসামি করে এবং আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। রড উদ্ধারের পর থেকে নাজমুল পলাতক রয়েছেন। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের মাধ্যমে আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়েছি।”
অডিওতে এক ব্যক্তিকে অটোরিকশা চালক নাজমুল হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি ইউপি সদস্য ‘আব্দুল জব্বার’ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই কথপোকথনে রড চুরির ঘটনায় উত্তম দেবের নাম না বলে ‘জয়নাথ দেব’ নামের এক ব্যক্তির ঘাড়ে দোষ চাপাতে বলা হয়।
ওই ব্যক্তি অটোরিকশা চালক নাজমুলকে বলেন, “রড চুরির ঘটনায় যে উত্তম জড়িত সেটা প্রকাশ করা যাবে না। বলতে হবে এই রড আমি জয়নাথ দেবের কাছ থেকে কিনেছি। তোর জন্য যদি ২০ লাখ টাকাও খরচ করা লাগে সেটা আমি জব্বার মেম্বার তোর জন্য খরচ করমু। তুই কোনো চিন্তা করবি না। তুই এরেস্ট হবি না। তোর জন্য যা যা করা লাগবে আমি আর উত্তম দা করব। তোরে যদি পুলিশ ধরেও একটা টোকাও দিতে পারবে না।”
এ সময় একই ফোন থেকে নাজমুলের সঙ্গে আরও একজন কথা বলেন, যাকে উত্তম দেব বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই ব্যক্তি নাজমুলকে বলেন, “তুই কোনো টেনশন করিস না। তোর মোবাইলটা সুইচ বন্ধ করে রাখ। তুই আমার সাথে কথা বলিস না, সমস্যা আছে। তুই কোনো চিন্তা করিস না। তোর মোবাইলের সিম-টিম খুলে মোবাইল বন্ধ করে আরেক জায়গায় চলে যা। তোর জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব করমু। তুই হানিফ মিয়ার সাথে কথা বলিস।”
এ বিষয়ে উত্তম কুমার দেবের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার তিনি ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি অডিওটি তার ন বলে দাবি করেন।
তিনি লেখেন, “আমার কণ্ঠ সুপার এডিট করে যারা সম্মানের হানি করছে, অনতিবিলম্বে ডিজিটাল আইনে মামলা করব।”
এদিকে, অডিও ফাঁসকে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ইউপি সদস্য আব্দুল জব্বার।
অটোরিকশা চালক নাজমুল হোসেন বলেন, “স্থানীয় এমরান আমাকে উত্তম বাবুর বাসা থেকে রডগুলো তার বাড়িতে নিয়ে যেতে বলে। এমরানের বাড়ির সামনে উঁচু পাহাড় থাকার কারণে অটোরিকশা নিয়ে পাহাড় উঠতে না পারায় সে (এমরান) এসব রড আমার বাড়ি এনে রাখতে বলে। পরে জানতে পারি এগুলো কালভার্ট ভেঙে চুরি করা রড। ডিবি আমার বাসা থেকে রড উদ্ধার করে। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তারা আমাকে উত্তম বাবুর নাম না বলে জয়নাথ বাবুর নাম বলার জন্য নির্দেশ দেয়।”