ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, এখানকার মানুষ ত্রাণ চায় না, টেকসই বাঁধ চায়।
Published : 08 Aug 2023, 03:19 PM
ফেনীতে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপে মুহুরী বাঁধের নতুন আরও একটি স্থান ভেঙেছে। এতে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।
ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান জানান, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ফুলগাজী ও পরশুরামে মুহুরী নদীতে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার; বেলা ১২টায় তা বেড়ে ৩৮ সে.মি উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
গত তিন দিনে (মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত) জেলায় ২৩০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।
এর মধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে মুহুরী বাঁধের নতুন করে আরও একটি স্থান ভেঙে গেছে। এর আগে সোমবার ভোরে বাঁধের দুটি স্থান ভেঙে গিয়েছিল।
পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) মোহাম্মদ ইয়াসিন জানান, প্রবল পানির তোড়ে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের পশ্চিম অলকা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার জায়গা ভেঙে যায়। এতে পশ্চিম অলকা, পূর্ব অলকা, ধনিকুন্ডা, নোয়াপুর, চিথলিয়া, পশ্চিম চিথলিয়া, অনন্তপুরসহ অন্তত ৮টি গ্রামের নীচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বহু ঘর-বাড়ি।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ভূইয়া বলেন, নতুন করে ফুলগাজীতে আরও তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলায় ১০ হাজার ৫০০ মানুষ পানিবন্দি হয়েছে।
উপজেলায় এ পর্যন্ত ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে চাল বিতরণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফুলগাজী সদর উপজেলার উত্তর বরইয়া গ্রামের বাসিন্দা করিম উল্যা বলেন, দুইদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি। ঘরের মেঝে থেকে পানি নামলেও উঠানে হাঁটুপানি জমে আছে। সোমবার শুকনা চিড়া, মুড়ি, চিনি দিলেও তা দিয়ে ঘরের সবার খাবার হয়নি।
একই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আনোয়ারা বেগম বলেন, রান্না ঘরে পানি জমে আছে। পানিতে ডুবে গেছে চুলো। রান্না করতে না পারায় ঘরের শিশুসহ সকলে না খেয়ে আছে।
উত্তর দৌলতপুর গ্রামের জহির উদ্দিন বলেন, কয়েকদিন আগে পানি না থাকায় সেচ দিয়ে জমিতে আমন ধানের চারা লাগানো হয়েছিল। কিন্তু এখন বন্যায় তার দুই একর জমির ধান পানিতে ডুবে আছে।
ফসল নষ্ট হওয়ার উদ্বিগ্ন এ চাষি আরও জানান, তার পুকুরসহ আশপাশের সব বাড়ির পুকুরের চাষের লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
শিক্ষার্থী আকলিমা আক্তার বলেন, বৃষ্টিতে ঘরের উঠানে হাঁটু পরিমাণ পানি। কাপড় ভেজা, দু'দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছি না।
ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সেলিম অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে প্রতিবছর বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়। এখানকার মানুষ ত্রাণ চায় না, টেকসই বাঁধ চায়।
ফেনীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান জানান, মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা স্থানগুলোতে মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীর পানি কমে গেলে বাঁধ সংস্কার করা হবে।
বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার জানান, উজানের পানিতে মুহুরী বাঁধের আর যে কোনো স্থান ভাঙতে না পারে সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা কাজ করছে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মোছাম্মদ শাহীনা আক্তার বলেন, ভাঙ্গনের স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বাঁধ মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে পানিবন্দিদের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন