পানি হয়নি বর্ষায়, লোকসানে হরিরামপুরের নৌকার কারিগর

অন্যান্য বছর ব্যবসায়ীদের অনেকে ১৫ থেকে ২০টি নৌকাও বিক্রি করেন; এবার প্রতি ব্যবসায়ী মাত্র ২ থেকে ৩টি করে নৌকা বিক্রি করেছেন।

মাহিদুল ইসলাম মাহিমানিকগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 06:29 AM
Updated : 22 Sept 2022, 06:29 AM

চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জের নদ-নদী ও খাল-বিলগুলোতে আশানুরূপ বর্ষার পানি না হওয়ায় হরিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী ঝিটকা হাটের ডিঙ্গি নৌকা ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েছেন।

এই হাটের পাশের ইছামতি নদীর তীরে গালা ইউনিয়নের আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কাঠের আসবাবপত্রের বাজার বসে। আর এখানেই প্রতি বছর আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত ডিঙ্গি নৌকার পসরা বসান ব্যবসায়ীরা। ডিঙ্গি নৌকার এ হাট বসে বর্ষা মৌসুমের প্রতি শনিবার।

প্রতি বছর আষাঢ় মাস থেকেই ঝিটকার সাপ্তাহিক হাটে কোনো কোনো ব্যবসায়ী ৮ থেকে ১০টি আবার কোনো কোনো ব্যবসায়ী ১৫ থেকে ২০টি করে নৌকা বিক্রি করেন। তবে পানি কম হওয়ায় এবার প্রতি হাটে প্রতি ব্যবসায়ী ২ থেকে ৩টি করে নৌকা বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে।

গালা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার ও নৌকা ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বছর আমি ২২০টির মতো নৌকা বানিয়েছিলাম। আষাঢ় মাসের শুরুতে পানি দেখে মনে হইছিলো লাভ হবে। তবে বর্ষায় পানি কম হওয়ায় আমার লাখ টাকার মতো লোকসান হয়েছে।”

সরেজমিনে ঝিটকার সাপ্তাহিক তিনটি হাটে দেখা গছে, ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক ডিঙ্গি নৌকা বিক্রির জন্য সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। অনেকে আবার নৌকা হাটে না এনে পানিতে ভিজিয়ে রেখেছেন। হাটে ক্রেতা নেই বললেই চলে। কয়েকজন ব্যবসায়ী ২০ থেকে ৩০টি করে নৌকা নিয়ে বসলেও বিক্রি করছেন দুই থেকে তিনটি।

ঝিটকা বাজার নৌকা ব্যবসায়ী আজিজ শিকদার বলেন, “আষাঢ় মাসের শুরুতে ২-৩টি হাটে অনেকগুলো নৌকা বিক্রি হয়েছিলো। এরপর পানি অনেক কমে গেলে নৌকা আর তেমন বিক্রি হয়নি। লোকসানে আছি।”

নৌকা ব্যবসায়ী সাইদ শিকদার বলেন, “১৫ জন কর্মচারী নিয়ে এ বছর প্রায় চার শতাধিক ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করেছিলাম। সাড়ে তিনশ’র বেশি নৌকা বিক্রি করলেও এখনও ৪০টির মতো নৌকা পানিতে ডুবিয়ে রেখেছি; যা আগামী বছর ছাড়া আর বিক্রি করার উপায়ও নেই।

“এ বছর আমি ১৮ লাখ টাকা এই নৌকার পিছনে বিনিয়োগ করেছি। মূলধনের টাকা উঠাতে লোকসান দিয়ে নৌকা বিক্রি করতে হয়েছে। ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকার নৌকা বিক্রি করতে হয়েছে ১৫’শ থেকে ২ হাজার টাকায়।”

ঝিটকা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সেন্টু বলেন, “বর্ষা কম হওয়ায় নৌকা ব্যবসায়ীরা লোকসানে রয়েছেন। আষাঢ় মাসের শুরুতে কিছুটা বিক্রি হলেও পরে তেমন হয়নি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক