‘আমার বুকটা এহন খালি অইয়া গেছে রে’
চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় নিহত হন পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদার।
‘আমার বাবায় পুলিশ অইছিল, আমার বুকটা ভইরা গেছিল। আমার হেই বুকটা এহন খালি অইয়া গেছে রে! আমার বাবায় জানি কত কষ্ট পাইয়া মরছে।’
এভাবেই বিলাপ করছিলেন চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড়ে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে বাসের ধাক্কায় নিহত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন সরদারের মা সেলিনা বেগম।
সোমবার ভোররাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনস্টেবল আল আমিন সরদার নিহত হন।
তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার উত্তর দুধখালি গ্রামের আব্দুল হক সরদারের ছেলে। পরিবারের ছয় ভাই এক বোনের মধ্যে আলামিন ছিলেন পঞ্চম। আলামিনের আড়াই মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
পরিবার জানায়, রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কোতোয়ালি থানার ওয়াসা মোড় এলাকায় জমিয়াতুল ফালা জামে মসজিদের সামনে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন আলামিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এ সময় তিন যুবককে সন্দেহজনকভাবে হাঁটতে দেখে তাদের থামার সংকেত দেন তারা।
তিন যুবকের মধ্যে একজন পালানোর চেষ্টা করেন। সেই যুবককে ধরার জন্য পথরোধ করার জন্য কনস্টেবল আলামিন মোটরসাইকেল নিয়ে মসজিদের পশ্চিম গেটের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি বাস আলামিনের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান। এবং গুরুতর আহত হন।
সহকর্মীরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর রাতে তার মৃত্যু হয়।
আল আমিনের বাবা আব্দুল হক সরদার বলেন, “কয়দিন আগে ছুটিতে আইছিল আলামিন। শুক্রবার জুমার পরে আমার সঙ্গে ছবি তুলছিল। আমি তো বুঝি নাই যে, এইডাই আমার বাবার শেষ ছবি।”
আলামিনের একমাত্র বোন হালিমা বলেন, “আমার একটা ভাই পুলিশ হইছে, আমরা যে কত গর্ব করছি। আল্লাহ আমার ভাইরে এত তাড়াতাড়ি নিয়া যাইবো, আমরা তা জানতাম না।”
আলামিনের স্ত্রী ইশরাত জাহান রিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি এখন কীভাবে বেঁচে থাকব! আমার আড়াই মাসের মেয়ে নিয়ে কার দুয়ারে যাব! আমার মেয়ে কাকে বাবা বলে ডাকবে! আল্লাহ, তুমি আমারে এত অল্প বয়সে কী করলা!”
মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমাদের একজন পুলিশ সদস্যের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।”
