‘প্রতিবন্ধী কোটা’ নেননি, অদম্য তামান্না বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠে

তামান্নার স্বপ্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হবেন তিনি।

আসাদুজ্জামান আসাদ, বেনাপোল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 04:43 AM
Updated : 5 August 2022, 04:43 AM

জন্ম থেকে দুই হাত ও এক পা না থাকা যশোরের ঝিকরগাছার অদম্য মেধাবী তামান্না নুরা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়েছেন। সেই পরীক্ষায় ‘প্রতিবন্ধী কোটা’ ব্যবহার করার সুযোগ থাকলেও তা নেননি তিনি।

ফলাফল প্রকাশের পর তামান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তামান্না বলেন, এখন তার স্বপ্ন, যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে লেখাপড়া করে বিসিএস ক্যাডার হওয়া।

যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (গণসংযোগ) আব্দুর রশিদ অর্ণব বলেন, “তামান্নার প্রতিবন্ধী কোটায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ নেয়নি। নিজের মেধার জোরে সে পড়াশোনা করতে চায়।

“তার এ অদম্য ছুটে চলা অবশ্যই প্রশংসিত। ওর জন্য শুভকামনা রইল।”

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের রওশন আলী ও খাদিজা পারভীন শিল্পী দম্পতির বড় মেয়ে বিজ্ঞানের ছাত্রী তামান্না এসএসসি ও এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন।

এছাড়া প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) এবং জুনিয়ার স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন তিনি।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের কেন্দ্রীয় গ্যালারিতে ৩০ জুলাই গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তামান্না। বৃহস্পতিবার বিকালে গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ওয়েবসাইটে গুচ্ছের ‘ক’ ইউনিটের ফল প্রকাশিত হয়।

এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে প্রকাশিত ফলাফলে তামান্না ৪৮.২৫ নম্বর পেয়েছেন বলে নিজেই সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

জন্ম থকে দুই হাত ও এক পা নেই তামান্না নুরার। টেবিলের ওপর বসে এক পা দিয়ে খাতায় লেখেন তামান্না। তার সে লেখাও দৃষ্টিনন্দন। শুধু বাম পা নিয়ে জন্ম নেওয়া তামান্না শারীরিক প্রতিবন্ধিতাকে জয় করেছেন। দৃঢ় মনোবল নিয়ে বাম পা দিয়ে লিখে ভালো ফলাফল করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

এসএসসি ও এইচএসসি পাশের পর বিডনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে তামান্নাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

Also Read: প্রধানমন্ত্রী কথা বললেন তামান্নার সঙ্গে

Also Read: পায়ে লিখে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেলেন তামান্না

নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য গত ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা চেয়ে এবং তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি লেখেন তামান্না। বাম পায়ে লেখা সে চিঠি তার বাবা ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হকের কাছে জমা দেন। সে চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠান ইউএনও।

পরে প্রধানমন্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী এ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফোনে চার মিনিট কথা বলেন, তার খোঁজখবর নেন এবং যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তামন্নার বাবা রওশন আলী স্থানীয় ছোট পোদাউলিয়া দাখিল মাদ্রাসার (নন এমপিও) বিএসসি শিক্ষক এবং মা গৃহিণী। তিন ভাই বোনের মধ্যে তামান্নাই বড়।

মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া কি জানতে চাইলে রওশন আলী বলেন, “ তামান্নার স্বপ্ন, গবেষণাধর্মী কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করা। স্বপ্ন পূরণে কয়েক মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলো। কিন্তু সেখানে তার চান্স হয়নি।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেই রেজাল্টে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। আশাকরি, তার স্বপ্ন পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চান্স হবে।”

তিনি আরও বলেন, “তামান্নার সঙ্গে আমাদের থাকতে হয়। সে ক্ষেত্রে অন্য জেলায় গিয়ে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বহন করা সম্ভব হবে না। তাই তামান্না যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাওয়ায় আমরা খুশি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক