১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেত্রকোণায় উত্তাল হচ্ছে উব্ধাখালি, ডুবছে নিম্নাঞ্চল

“কিছু গ্রামীণ রাস্তা তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সোমবার দুপুর নাগাদ কোনো বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকেনি।”

নেত্রকোণায় উত্তাল হচ্ছে উব্ধাখালি, ডুবছে নিম্নাঞ্চল

পানিতে ডুবে যাওয়ায় বাড়ির ‍উঠানে জাল পেতে মাছ ধরার চেষ্টা করছে কয়েক শিশু।

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2023, 02:11 PM

Updated : 05 Jul 2023, 10:28 AM

পাঁচদিন ধরে অব্যাহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণায় প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে কলমাকান্দা উপজেলার কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে গ্রামীণ রাস্তা তলিয়ে গেছে। 

এর মধ্যে পানি বেড়ে গত তিন দিন ধরেই বিপৎসীমা পেরিয়ে প্রবাহিত হওয়া জেলার অন্যতম নদী কলমাকান্দার উব্ধাখালি ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠছে।

Image

নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ায় কিছু রাস্তা তলিয়ে গেছে।

উব্ধাখালি ছাড়াও উপজেলার মধ্যে থাকা ছোট ছোট নদী মহাদেও, বৈঠাখালী, মঙ্গলেশ্বরী, গুমাই ও গণেশ্বরী নদীরও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারওয়ার জাহান জানান, কলমাকান্দা পয়েন্টে উব্ধাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তবে সোমেশ্বরী, কংস ও ধনু নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নীচ দিয়ে বইছে।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলার পোগলা ও বড়খাপন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে। কিছু গ্রামীণ রাস্তা তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও সোমবার দুপুর নাগাদ কোনো বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকেনি। 

Image

ডুবে গেছে একটি বিদ্যালয়ের মাঠ।

“তবে বন্যার শঙ্কা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। জরুরি হট নম্বর খোলা হয়েছে। শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।”

পোগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক জানান, রোববার সকাল থেকে পানি বেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিয়নের কালাকোনা, জীবনপুর, গোয়াতলা, কৈলাটি, মঙ্গলসিধসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

কলমাকান্দার কোনো স্কুলে পানি ঢুকেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, ঈদের ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকায় কতগুলো বিদ্যালয়ে বন্যার পানি এসেছে তা সঠিক বলা যাচ্ছে না। 

“তবে বাহাদুরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাইজপাড়া, খলা-২, বড়খাপন, চৌহাট্টা, বাউসারী, হাইলাটী, রিকা, পোগলা, ভাটিপাড়াসহ বেশ কিছু বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ঢুকেছে বলে খবর পেয়েছি। ”

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, “কলমাকান্দায় কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা হলে বন্যার্তদের উদ্ধারসহ তাদের জন্যে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রাখা আছে।কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।” 

আরও পড়ুন

পুরানো খবর:

নেত্রকোণায় নদীর পানি বাড়ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে