Published : 29 Aug 2023, 09:55 PM
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বিএনপির কর্মিসভায় হামলার সময়কার ভিডিওতে সরকার সমর্থক যুবলীগের এক নেতাকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। ওই ভিডিওতে তার সঙ্গে আরও দুজনকে দেখা গেছে অস্ত্র হাতে, তারা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
শনিবার লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের উন্দানিয়া গ্রামে বিএনপি নেতা মফিজুল ইসলামের বাড়িতে কর্মিসভা চলাকালীন হামলা হয় বলে স্থানীয়দের কাছে জানা যায়।
সেই হামলায় যুবলীগ নেতা আবাদ হোসেনসহ ভিডিওতে দেখা তিনজন ছিলেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন। তবে আবাদ দাবি করছেন, তিনি সেখানে ছিলেনই না।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবাদ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
তার সঙ্গে অস্ত্র হাতে অন্য যে দুজনকে দেখা গেছে, তাদের একজন হলেন লালমাই উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের গৈয়ারভাঙ্গা (খরত্তা) গ্রামের নাইম হোসেন। তিনি বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী। আরেকজন হলেন বরুড়া উপজেলার বাসিন্দা মাহমুদ হোসেন। তিনি ছাত্রলীগকর্মী। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের বর্তমানে কোনো কমিটি নেই। আগামী কমিটিতে তিনি পদ প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।
শনিবার দুপুরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলামের বাড়িতে বিএনপির কর্মিসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই হামলা হয়। তাতে অন্তত ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সেদিন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী গৈয়ারভাঙা বাজারে ‘অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে’ বিক্ষোভ মিছিল করেন। এরপর তারা কর্মিসভায় হামলা চালান।
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মনির হোসেনের মাথায় গুলি লাগে এবং তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। এছাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ খানের পায়ে ও পেটে গুলি লাগে।
আহত অবস্থায় তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাদের গায়ে ছররা গুলি লাগে বলে জানায়।
হামলার পর ৬ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ভিডিওটি সাংবাদিকদের কাছে আসে। কে এই ভিডিও ধারণ করেছেন, তা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সেদিন আতঙ্কে ও হামলার শিকার হয়ে যারা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছিলেন; তাদের মধ্যে কেউ মোবাইল ফোনে এই ভিডিওটি ধারণ করেন।
ভিডিওটিতে দেখা গেছে, হামলাকারীদের ভয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। বাড়ির উঠানে থাকা হামলাকারীদের তিনজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, বাকি কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকা তিনজনকে অস্ত্র তাক করে বারবার এদিক-সেদিক ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে।
ভিডিওটিতে বেশ কয়েকবার গুলি চালানোর শব্দ ও অনবরত ভাঙচুরের শব্দ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন ভিডিওটি দেখে পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিকে আবাদ হোসেন (বঙ্গবাসী আবাদ), সাদা শার্ট পরা ব্যক্তিকে নাইম এবং কালো টি-শার্ট পরা ব্যক্তিকে মাহমুদ বলে শনাক্ত করেন।
হামলায় গুলিবিদ্ধ যুবদল নেতা ফিরোজ বলেন, “অস্ত্রধারীরা যখন আমাকে প্রথম গুলি করে, তখন আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর আমার দিকে দ্বিতীয়বার গুলি করার জন্য বন্দুক তাক করে দেখে গুলি শেষ। বন্দুকের গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় সেদিন প্রাণে রক্ষা পেয়েছি। না হলে হয়ত আমাকে প্রাণেই মেরে ফেলত।”
লালমাই উপজেলা বিএনপির প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব ইউসুফ আলী মীর পিন্টু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আবাদসহ তিনজনকে শুধু ভিডিওতে দেখা গেছে। এছাড়া আরও অনেকেই সেদিন অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ছিল। প্রকাশ্য দিনের বেলায় এই হামলা হয়েছে।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় যুবলীগ নেতা আবাদ বলেন, “আমি ওই বিএনপির নেতার বাড়িতে ছিলাম না। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন।
অস্ত্র হাতে ভিডিওতে দেখা গেছে- একথা বলা হলে তিনি ‘এগুলো মিথ্যা কথা, আমি সেখানে ছিলাম না’ বলেই মোবাইল ফোনের কলটি কেটে দেন।
এবিষয়ে নাঈম ও মাহমুদের কোনো বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ হানিফ সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওইদিন আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে ‘ঝামেলা’ হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
অস্ত্র হাতে হামলার ভিডিও রয়েছে জানালে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এবিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এদিকে বিএনপি নেতা ইউসুফ বলেছেন, তারা হামলাকারী সবাইকে চিহ্নিত করে নাম-ঠিকানা সংগ্রহের কাজ করছেন।
হামলার বিষয়ে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।