১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লায় বিএনপির সভায় আওয়ামী লীগের হামলার অভিযোগ, আহত ২০

একজনের পায়ে ও হাতে এবং আরেকজনের মাথায় ছররা গুলি লেগেছে; তারা এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার।

কুমিল্লায় বিএনপির সভায় আওয়ামী লীগের হামলার অভিযোগ, আহত ২০

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বিএনপির সভাস্থলে হামলার সময় মঞ্চ ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2023, 10:14 PM

Updated : 26 Aug 2023, 10:14 PM

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় বিএনপির কর্মী সভায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের গৈয়ারভাঙা বাজার ও উন্দানিয়া গ্রামে বিএনপি নেতা মফিজুর রহমানের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

বিএনপি জানায়, গুলিবিদ্ধদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শরিফ বলেন, “একজনের পায়ে ও হাতে এবং আরেকজনের মাথায় ছররা গুলি লেগেছে। তারা এখন আশঙ্কামুক্ত। আমরা তাদেরকে চিকিৎসা দিয়েছি।”

লালমাই থানার ওসি হানিফ সরকার বলেন, “বেলঘর উত্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোকজনের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। পুলিশ গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”

অপরদিকে আওয়ামী লীগ এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে উল্টো বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের বাড়িতে কর্মী সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর।

দুপুর ২টার দিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শাহীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আয়াতউল্লাহর নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী গৈয়ারভাঙা বাজারে ‘অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে’ বিক্ষোভ মিছিল করেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা আরও জানান, এরপর তারা গৈয়ারভাঙা বাজার থেকে উন্দানিয়া গ্রামে গিয়ে মফিজুর রহমানের বাড়িতে আয়োজিত সভার মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন।

এ সময় বিএনপির নেতা মফিজুল ইসলামের বাড়িতে লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা আরও বলেন, ঘটনার সময় আতঙ্কে মানুষ ছোটাছুটি করে পালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে গুলি চালানো শুরু করে। এতে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা মনির হোসেনের মাথায় গুলি লাগে এবং তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়।

এ ছাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদ খানের পায়ে ও পেটে গুলি লাগে এবং তাকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ও শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “গুলিবিদ্ধসহ আহত নেতা-কর্মীদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন ও আয়াতউল্লাহর নেতৃত্বে এ হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। আমরা কী কর্মী সভায়ও করতে পারব না তাদের কারণে?”

বিভিন্ন সময় বিএনপির কর্মসূচিতে হামলার করার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “এর আগেও একই উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নে আমার কর্মী সভা ভণ্ডুল করা হয়েছে। চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়।”

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল হাসান শাহীন বলেন, “বিএনপির লোকজন আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করেছে। এতে আমাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আমরা কোনো হামলা করিনি। এ ছাড়া অস্ত্রের মহড়া ও গুলি চালানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন।”

লালমাই উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ পরান সওদাগর বলেন, “আমরা হামলা করিনি। বরং যুবদল নেতা-কর্মীদের হামলায় আমাদের ছাত্রলীগ নেতা আরজু, মাইনুল, মাছুম, রায়হানসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মাইনুলকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  ভর্তি করা হয়েছে।”