০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ হাসিনার প্রয়োজন আছে বলেই নৌকা ছাড়তে হয়েছে: জাপা মহাসচিব

“আসনটি পুনরুদ্ধারে স্বতন্ত্র চারজনের মধ্যে একজনকে রেখে বাকিরা বসে যাবেন। এরকম একটা আলোচনা চলছে।”

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Dec 2023, 01:26 AM

Updated : 24 Dec 2023, 01:26 AM

প্রয়োজন বুঝেই আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে নৌকা ছেড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ওই আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

তিনি বলেছেন, “শেখ হাসিনা তার দলের স্বার্থে গুরুত্ব বুঝেই আমাকে বঙ্গবন্ধুর নৌকা দিয়েছেন। কিন্তু যারা ব্যক্তি স্বার্থে না বুঝে রাজনীতি করে বিরোধিতা করছেন তারা মুর্খ।

“শেখ হাসিনার বাবার মার্কা নৌকা, উনার (শেখ হাসিনার) বাবা ৭০ সালে এই নৌকা দিয়ে ইলেকশন করেছেন। পরে শেখ হাসিনার মার্কা। শেখ হাসিনার প্রয়োজন আছে বলেই উনার এত প্রিয় র্মাকা নৌকা এখানে নৌকা হয়েছে।

“নিশ্চয়ই একটা কিছু গুরুত্ব আছে, নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। আওয়ামী লীগের লোকেদের এটা বোঝা উচিৎ। তবে উনারা বুঝবে, খুব তাড়াতাড়ি বুঝবে। তবে, যাদের ব্যক্তি স্বার্থ আছে তারা কখনোই বুঝবে না”, বলেন জাপা মহাসচিব।

মুজিবুল হক চুন্নু শুক্রবার রাতে তার নিজ গ্রাম তাড়াইল উপজেলার কাজলা গ্রামে স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদেরকে বলব যে, আমি নির্বাচনে এমপি হইলে একটা কিছু হয়ে গেলাম, তা না। মন্ত্রী হইলে কিছু হয়ে গেলাম তা না। এগুলো আমার জন্য পুরনো, মন্ত্রি-এমপি অনেকবার হয়েছি। নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কিছু করতে পারাটাই বড় উদ্দেশ্য।”

এর আগে নির্বাচনি পোস্টারে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি নিজেকে ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন চুন্নু। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।

জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতায় আওয়ামী লীগ এ আসন থেকে দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এখানে তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন, যাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটা বড় অংশই রয়েছে।

তারা হচ্ছেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এডিসি মেজর (অব.) মো. নাসিমুল হক (কাঁচি), স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার গোলাম কবীর ভূঁইয়া (কেটলি) এবং আওয়ামী লীগ নেতা মো. রুবেল মিয়া (ট্রাক)।

গোলাম কবীর ভূঁইয়া বলেন, “এই আসনটি জাতীয় পার্টির কবল থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য স্বতন্ত্র চারজনের মধ্যে থেকে একজনকে রেখে বাকিরা বসে যাবেন। এরকম একটা আলোচনা নিজেদের মধ্যে চলছে।”