Published : 22 Jul 2023, 06:52 PM
মেহেরপুরে সরকারের নানা প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক জমিকে কৃষি জমি দেখিয়ে জমির দাম কম ধরার কথা জানাচ্ছেন ভূমি মালিকরা।
এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, উল্টো হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ করছেন তারা।
ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে সঠিক মূল্য না পেয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলছেন বহু মানুষ। এই অবস্থায় অনেকে উচ্চ আদালতে গিয়ে অধিগ্রহণ ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নই আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভূমি মালিকদের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ৪ ধারায় উল্লেখ আছে জেলা প্রশাসক যৌথ তালিকা করে শ্রেণি পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু মেহেরপুরে সে বিধান মানা হচ্ছে না।
মেরিনা পারভীন নামে একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এতে বাজার মূল্যের চার ভাগের এক ভাগ দামও পাচ্ছেন না তারা। এ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কথা বলতে গেলে তারা পাত্তা দিচ্ছেন না।
অধিগ্রহণ জটিলতা ও উচ্চ আদালতে মামলায় আটকে আছে মেহেরপুর পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট নির্মাণ কাজ। দেশের ২২টি জেলার মধ্যে ২১টি জেলাতেই কাজ চললেও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই জেলায় শুরুই করা যায়নি।
দেশের সব উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ হলেও, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় মেহেরপুরের মুজিবনগরে ৫ বছরেও হয়নি ‘মডেল মসজিদ’।

জেলায় রেললাইন স্থাপন, মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স নির্মাণ, মুজিবনগর চেকপোস্ট নির্মাণ, মুজিবনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ বেশ কিছু প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির নির্বাহী সভা একনেক পাস করেছে। বরাদ্দ হয়েছে অর্থও।
এসব প্রকল্পের জন্য লাগবে আরও জমি। অধিগ্রহণ জটিলতার অবসান না হলে এসব প্রকল্পেও জটিলতা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মুজিবনগর উপজেলার তোয়াক্কন নেছা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার একমাত্র বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ন্যায্যমূল্যের দাবিতে আমি আমার পরিবার নিয়ে মানববন্ধন করেছি, প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছি। এখনেও কোনো ফল পাইনি। আমার মত অনেক ভূমি মালিক তাদের জমি রক্ষা নিয়ে আতঙ্কে বসবাস করছে।”
বামন পাড়া মৌজার জমির মালিক আশরাফুল হক বলেন, “আমার এক বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাশের জমি প্রতি শতাংশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ টাকায়। অথচ সরকার আমার জমির মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি শতাংশ ৫৭ হাজার টাকা।
“আমার ভিটেবাড়ি জমি শহরের বাণিজ্যিক এলাকায়। অথচ অধিগ্রহণে দেখানো হচ্ছে কৃষি জমি। সরকারি নিধারিত সর্বনিন্ম মূল্যের চেয়েও কম মূল্য দেখিয়ে আমার জমির মূল্য নিধারণ করা হয়েছে। আমাকে আপত্তি দাখিলের জন্য ১৫ দিনের সময় না দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।”
বন্দর গ্রামের মো. গাউছুল বলেন, “আমাদের তিন শরিকের কোটি টাকা মূল্যের ১২ কাঠা জমি সরকার লাখ টাকায় অধিগ্রহণ করেছে। জমির উপর লিচু গাছ ছিল, সেগুলোর ক্ষতিপূরণও দেয়নি। আমরা বাধা দিলে পুলিশ এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে কাজ শুরু করছে।”
মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মোতাচ্ছিম বিল্লাহ মতু জানান, তার ভিটার জমিতে মুজিবনগর মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে চাইছে প্রশাসন।
তিনি বলেন, “মুজিবনগরে অসংখ্য সরকারি সম্পত্তি, অর্পিত সম্পত্তিসহ নাগরিকের খালি আবাদী জমি আছে। অথচ সেই সমস্ত জমি অধিগ্রহণ করে সেখানে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে না নিয়ে উদ্দ্যেশ্যমূলকভাবে বসতভিটে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।”
অধিগ্রহণ প্রশ্নে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আজিজুল ইসলাম বলেন, “জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মূল্য কম দেওয়া হচ্ছে কি না, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আমার কাছে অভিযোগ করলে বিষয়টি আমি দেখব।”
জমির দাম নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, “সেই মৌজার এক বছরের ক্রয়-বিক্রয়ের গড় অনুযায়ী ঠিক হয় এই দাম। আমাদের জমির মূল্য কম বেশি করার সুযোগ নেই।”
ভূমি মালিকরা মূল্যের উপর আপত্তি জানাতে যে সময় পাওয়ার কথা সেই সময় পাবে বলেও জানান তিনি।