কুষ্টিয়ায় কৃষক লীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় ‘তদবির’: জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মী আটক
পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে আটক নেতাকর্মীদের দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বলে জানান মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
কুষ্টিয়ায় নাশকতার মামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া কৃষক লীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়ার ‘তদবির’ করতে গেলে জামায়াত-বিএনপির ৮ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে মিরপুর থানায় ঘটা এ ঘটনায় পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে আটক নেতাকর্মীদের দলীয় নেতাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বলে জানান মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
আটকরা হলেন- উপজেলার ১ নং চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড চিথলিয়া গ্রামের জামায়াতে ইসলামের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মোঃ মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রমাণিক (৫০), ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং একই ইউনিয়নের বিএনপি কর্মী শহীদুল ইসলাম (৫৩)।
পুলিশ জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি নাশকতা মামলায় জড়িত সন্দেহে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
তাকে থানায় নিয়ে আসলে রাত ২টার দিকে ওই ইউনিয়নের জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীরা থানায় এসে গ্রেপ্তার আসামিকে ছেড়ে দেয়ার জন্য বলেন।
বারবার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, কোনো মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তারের পর থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার আইন নাই। আসামিকে ছেড়ে দেয়া বা কারাগারে দেয়ার এখতিয়ার কেবলই আদালতের। তবুও নেতাকর্মীরা বুঝতে না পেরে পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করেন।
বারবার তদবিরের চাপে অতিষ্ট হয়ে তাদেরকেও আটক করে পুলিশ।
এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলার বিএনপির সদস্য সচিত খন্দকার টিপু সুলতানের বলেন, “বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কেউ থানা পুলিশের সাথে তদবির বাণিজ্যে জড়ালে তার দায় তাকেই বহন করতে হবে। দলের কোনো দায়িত্বশীল নেতাকর্মী এ ধরনের কাজে জড়িত বলে আমার জানা নেই।”
তবে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর রেজাউল করীম বলেন, “আপনারা যা শুনেছেন বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টোটা। পুলিশ হাফিজুর নামে যাকে গ্রেপ্তার করেছেন তিনি ২০২৩ সাল থেকে জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত।
“দলীয় নেতাকর্মীকে ধরে আনলে সেখানে দলের অন্য নেতাকর্মীরা তো যাবেই তাকে ছাড়াতে, এটাই স্বাভাবিক। এখানে তদবির বাণিজ্যের কিছু নেই’।
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “এভাবে বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধরে এনে আওয়ামী লীগের ট্যাগ লাগিয়ে সন্ত্রাস ও নাশকতা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “তারা গ্রেপ্তার হাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করেন।
ওসি আরও বলেন, তাদের আইনগত বিধি নিষেধ বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দিতে বলেন। একপর্যায়ে অতিষ্ট হয়ে তাদেরই আটক করা হয়। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আটককৃতদের মুচলেকা নিয়ে উভয় দলের নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
এ দিকে গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলীয় পদধারী কিছু লোক দলীয় পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে সখ্যতার খাতিরে মামলা বাণিজ্য বা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আসামি ধরানো-ছাড়ানোর তদবির বাণিজ্য করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিরপুর থানা টেরিটোরিতে এ জাতীয় তদবির বাণিজ্য এর আগেও ধরা পড়েছে। জানিয়ে তিনি বলেন, এ বছরের ১০মে মিরপুর থানায় মাদক মামলার এজাহার নামীয় ও গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে ছাড়াতে এসে জামায়াত-বিএনপির ৫ নেতাকর্মী আটক হয়েছিলেন বলে তথ্য রয়েছে।
