কুমিল্লা ও ঝিনাইদহে পানিতে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু

পরিবারের সদস্যদের অজান্তে শিশুরা পুকুর ও নদীতে চলে যায়।

কুমিল্লা প্রতিনিধিঝিনাইদহ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Oct 2022, 03:33 PM
Updated : 8 Oct 2022, 03:33 PM

কুমিল্লা ও ঝিনাইদহে একদিনে পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশু এবং ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে নদীতে ডুবে আর দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নাঙ্গলকোটে নিহত শিশুরা হলো- উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব বামপাড়া গ্রামের আবুল কালাম ভূঁইয়ার ছেলে জাহিদুল ইসলাম ভূইয়া ওরফে সাইফ উদ্দিন (১১) এবং আবুল কালাম ভূঁইয়ার মেয়ে স্বপ্না বেগমের ছেলে জোবায়েদুল ইসলাম স্বপ্নীল (৯)।

নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কানন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সাইফ ও স্বপ্নীল সম্পর্কে আপন মামা-ভাগিনা। সাইফ স্থানীয় বেল্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আর স্বপ্নীল একই ইউনিয়নের মনতলী গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে এবং ঢাকার একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুর্গাপূজার ছুটি উপলক্ষে স্বপ্নীল মামাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।

রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও পূর্ব বামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাহবুবুল হক বলেন, “দুপুরে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে সাইফ ও স্বপ্নীল বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায়। এরপর থেকে তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের লোকজন তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে।“

“বিকালে জসিম উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি স্বপ্নীলকে পুকুরের ভাসতে দেখে চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তখন স্বপ্নীলকে উঠাতে গিয়ে একই স্থান থেকে সাইফকেও উদ্ধার করা হয়।“

ইউপি সদস্য বলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হরিণাকুণ্ডুতে নিহত দুই শিশু হলো- উপজেলার নিত্যানন্দপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে আরিফা (৫) এবং ময়েন উদ্দিনের মেয়ে ইয়াসমিন (৬)। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো বোন।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সাইফুল ইসলামের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এ কারণে বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসে।

“শিশু দুটি সবার অজান্তে খেলতে খেলতে বাড়ির পাশের কুমার নদীতে পড়ে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখুঁজি করে নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।”

এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানান ওসি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক