নওগাঁয় নবজাতক চুরির অভিযোগ অসত্য দাবি বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির
আল্ট্রাসনোগ্রামে তাদের জমজ সন্তানের কথা বলেছিলেন চিকিৎসক।
নওগাঁর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতক চুরির অভিযোগকে সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবি করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতি।
তাদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজসহ নানা তথ্য পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে প্রসূতির অপারেশনে একটি সন্তানই জন্মগ্রহণ করেছে। ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের জন্য একজন সনোলজিস্ট ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর এর দায় চাপিয়েছেন তারা।
শনিবার বিকেলে শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় বিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন বিএমএ নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি ইসকেন্দার হোসেন।
বৃহস্পতিবার বলাকা ক্লিনিকে শান্তনা আক্তার নামে এক প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনে তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম হয় বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রসূতি ও তার স্বামী শান্ত ইসলাম দাবি করেন, পর পর দুটি আল্ট্রাসনোগ্রামে তাদের জমজ সন্তানের কথা বলেছিলেন চিকিৎসক।
ফলে সিজারিয়ান অপারেশনের পর একটি সন্তান পেয়ে অপর সন্তানটি চুরি হয়েছে- এমন অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। এ ঘটনায় প্রসূতির স্বামী শান্ত ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ শনিবার সকালে জিহাদ হোসেন নামে ক্লিনিকের এক ওয়ার্ড বয়কে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে বিএমএ সভাপতি ইসকেন্দার হোসেন বলেন, “অপারেশন থিয়েটার থেকে কোনো নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই পুলিশ মামলা নিয়েছে।”
সনোলজিস্ট ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অসংগতির কথা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রসূতির গর্ভে জোড়া সন্তান থাকার ভুল রিপোর্ট দিয়েছিলেন সনোলজিস্ট দিনা ও রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সঠিক তথ্য যাচাই না করায় এই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএমএ ও ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতারা জানান, কোনো নিরপরাধ চিকিৎসক বা ক্লিনিক মালিককে হয়রানি করা হলে কিংবা মামলায় গ্রেপ্তার করা হলে তারা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মুক্তার হোসেন ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান খোকাসহ স্থানীয় চিকিৎসক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
