১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’: স্ত্রীসহ পুলিশ পরিদর্শকের নামে দুদকের মামলা

আসামি ফখরুদ্দীন ভূঞা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত আছেন।

‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’: স্ত্রীসহ পুলিশ পরিদর্শকের নামে দুদকের মামলা

পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 07:26 PM

Updated : 15 Oct 2026, 07:26 PM

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দীন ভূঞা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

বুধবার ময়মনসিংহে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করা হয় বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিল।

আসামি ফখরুদ্দীন ভূঞা বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার সময় তিনি ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত ছিলেন।

ফখরুদ্দীন ভূঞার স্ত্রী জাহানারা খানমের বর্তমান ঠিকানা ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া এলাকার সৌহার্দ্য টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন।

পুলিশ পরিদর্শক ফখরুদ্দীন ভূঞার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থ বৈধ করতে তা স্ত্রীর নামে দিতে সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই বছরের ১৭ জানুয়ারি স্ত্রীর পক্ষে ফখরুদ্দীন ভূঞা সম্পদ বিবরণীর ফরম গ্রহণ করেন। পরে ১০ মার্চ জাহানারা খানম নিজের নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা ও আয়ের উৎসের বিবরণী জমা দেন।

দুদকের অনুসন্ধানে জাহানারা খানমের নামে ৯৮ লাখ ৯২ হাজার ৭৭৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। তবে সম্পদ বিবরণীতে ঋণের পরিমাণ বাদ দিয়ে তার নিট সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪২ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে পাওয়া সম্পদের সঙ্গে জাহানারা খানমের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণের কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

তবে জাহানারা খানমের আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য আয় ছিল আট লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৪ টাকা। একই সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ১৮ লাখ ৬০ হাজার ২৬৩ টাকা।

সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ৮৩ লাখ ২২ হাজার ৩৭১ টাকা দাঁড়ায় বলে এজাহারে বলা হয়েছে।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের করা এজাহারে জাহানারা খানমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এবং ফখরুদ্দীন ভূঞার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

অভিযোগের সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্তকালে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে এজাহারে বলা হয়েছে।