শার্শার মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গা প্রতিমায় শেষ ছোঁয়া
“প্রায় ৪০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরিতেই ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। এতে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে যশোরের শার্শা উপজেলার মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা।
রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ পর্যায়ে।
উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপ ও কারিগরদের ব্যস্ততা। প্রায় এক মাস আগে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়।
এখন কোথাও মাটির প্রলেপ শুকানো হচ্ছে, কোথাও চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। আবার কোথাও প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শ্রী জয়দেব কুমার সিংহ জানিয়েছেন, এবার শার্শা উপজেলার ৩২টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় আটটি এবং শার্শা থানায় ২৪টি মণ্ডপ রয়েছে।
শার্শা থানা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নীল কুমার সিংহ বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ শুরু হবে। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে।
শিল্পীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো মাটি শুকাতে সমস্যা হলেও এখন রোদ ওঠায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।
বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর মাটি দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেব-দেবীর অবয়ব। এখন চলছে রঙ-তুলির কাজ।
শিল্পীরা জানান, বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো মাটি শুকাতে সমস্যা হলেও এখন রোদ ওঠায় দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে প্রতিমা তৈরির কাজ।
প্রতিমাশিল্পী বাসুদেব ভাস্কর বলেন, “বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রায় ৪০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরিতেই ৩০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। এতে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে।”
মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা দিনরাত এক করে মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাসহ দুর্গোৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে এই জনপদে দুর্গোৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।
শার্শা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বৈদ্যনাথ দাস বলেন, “শারদীয়া দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে।”
ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা করেন তিনি।
পূজা উদ্যাপন কল্যাণ ফান্ডের সভাপতি কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা সব ধরনের সহযোগিতাও করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, উপজেলা পূজা পরিষদ ও প্রতিটি পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে তাঁদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নজরদারি করছে বলে জানান তিনি।
