১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুটপাতের গরম কাপড়ের দামে ‘গরম’

চাহিদা অনুযায়ী, ফুটপাতের দোকানগুলোতে জ্যাকেট, সোয়েটার, কোর্ট, মাফলার, হাত মোজা ও পা মোজার প্রাধান্য বেশি।

বেনাপোল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jan 2024, 02:52 PM

Updated : 22 Jan 2024, 03:26 PM

মাঘের শুরুতে তাপমাত্রা কমে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ স্থবির হয়ে পড়েছে যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকায় জনজীবন। চরম বিপাকে রয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।

ফলে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে শার্শা উপজেলার ছোট-বড় মার্কেট ও ফুটপাতে গরম কাপড়ের চাহিদা বেড়েছে।

বড় বড় মার্কেটে দাম বেশি হওয়ায় নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষরা ভিড় করেছেন ফুটপাতের দোকানগুলোতে। এই দোকানগুলোতে শিশু ও বয়স্কদের কাপড় কেনার চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বেনাপোল, নাভারন, শার্শা, বাগআচড়ার হাট-বাজারে অস্থায়ী ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় চোখে পড়ার মত।

চাহিদা অনুযায়ী দোকানগুলোতে জ্যাকেট, সোয়েটার, চাদর, কোর্ট, মাফলার, হাত মোজা ও পা মোজার প্রাধান্য বেশি।

তবে শীতের তীব্রতার সঙ্গে সঙ্গে দাম চড়া হওয়ায় শীতবস্ত্র কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র মানুষ।

প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে এই অস্থায়ী দোকানগুলোর বেচাকেনা। এ বছর ক্রেতার ভিড় বাড়ায় বিক্রেতারা বেশ খুশি।

নাভারন নিউ মার্কেটের সামনে ফুটপাতের উপর পুরাতন কাপড়ের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানি হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, পুরাতন কাপড়ের মধ্যে জ্যাকেট, সোয়েটার, কোর্ট, মাফলার ও হাত মোজা এখানে বেশি বিক্রি হয়। এখানে কম মূল্যের নতুন কাপড়ও বিক্রি করি।

তিনি আরও বলেন, কৃষক, দিনমজুর, বন্দর শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক ও রিকশা-ভ্যান চালকরাই বেশি আসেন এখানে। এ ছাড়া নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষও ভিড় জমাচ্ছেন।

আরেক বিক্রেতা বুলবুল মিয়া বলেন, “ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়ে গেছে। আমরাও চাহিদা মত কাপড় রাখার চেষ্টা করছি। তবে এ বছর দোকানে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন।”

নাভারন বড় মসজিদের সামনের ফুটপাত থেকে একটি পুরাতন জ্যাকেট কিনে ফিরছিলেন বেনাপোলের রাজাপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তার।

তিনি বলেন, “কুয়াশার ভেতরে ভোরবেলায় ইজিবাইক নিয়ে বের হই। শীতে একেবারে কাহিল হয়ে যাই। ভাবছিলাম দেড় থেকে দুইশর মধ্যে একটা জ্যাকেট কিনব। এসে দেখি দাম বেশি। শীতের মধ্যেও কাজ করাই লাগবে। তাই তিনশ টাকা দিয়ে জ্যাকেটটা কিনেছি।”

ওই এলাকায় গরম কাপড় কিনতে এসে বন্দর শ্রমিক আব্দুস সেলিম বলেন, “মেয়ের জন্য একটা সোয়েটার কিনেছি। আর আমার জন্য একটা জাম্পার কিনব। ঘুরে ফিরে দেখছি। এখনও পছন্দ মত কিছু পাইনি।”

নাভারন নিউ মার্কেটে একজন শিক্ষক দম্পতি এসেছেন ছোট ছেলের জন্য জ্যাকেট কিনতে। কথা হয় তাদের সঙ্গে।

তারা জানান, ছেলের শীতের কাপড় কিনতে তাদের এখানে আসা। একটি জাম্পার, মাফলার ও হাতমোজা কিনেছেন তারা। এবার শীতের কাপড়ের দাম অন্যান্য বারের চাইতে একটু বেশি।

বাগআচড়া ফুটপাতে কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, “মার্কেট ও শো-রুমে সুন্দর সুন্দর কাপড় রয়েছে তবে তার দাম আমাদের সামর্থ্যের বাইরে। এ জন্য ফুটপাতের দোকানে এসেছি। এখানে পুরাতন কাপড়ও পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে কিছু কিছু সুন্দর নতুন কাপড়ও পাওয়া যায়। “

বাগআচড়া বাজারের ফুটপাতের দোকানি জালাল মিয়া বলেন, “এখানে দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষই বেশি আসেন। তবে কিছু মধ্যবিত্তও বর্তমানে আমাদের কাছে আসছেন।”

বেনাপোলের লালমিয়া সুপার মার্কেটের ‘আর ফ্যাশন কর্নারের’ মালিক তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরম কাপড়ের বেচাবিক্রি জমজমাট হয়ে উঠেছে। শীত যত বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড় তত বাড়ছে।”