Published : 05 Nov 2023, 05:50 PM
সাবেক স্বামীর ছোড়া অ্যাসিডে দগ্ধ হয়ে ২৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও প্রাণে বাঁচলেন না মাদারীপুর জেলার শিবচরের সেই গৃহবধূ।
শনিবার দুপুরে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যাওয়ার পর সন্ধ্যায় স্বজনরা তার মরদেহ বাড়িতে আনেন বলে জানিয়েছেন শিবচর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন।
নিহত সাদিয়া আক্তার শিবচরের মাদবরচর এলাকার লিটু হাওলাদারের মেয়ে। একই এলাকার সিরাজ শিকদারের ছেলে সুমন শিকদারের সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদের পর তার অন্যত্র বিয়ে ঠিক হয়েছিল।
সে খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ১৬ অগাস্ট রাত ১০টার দিকে সাদিয়ার উপর অ্যাসিড ছুড়ে মারে সুমন। অ্যাসিডে সাদিয়ার মাথা, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। এরপর থেকেই তিনি বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বজনরা জানান, প্রেমের সম্পর্ক থেকে চার বছর আগে সাদিয়া ও সুমনের বিয়ে হয়েছিল। সুমন তখন স্পিডবোটের চালক ছিলেন। তাদের সংসারে একটি মেয়েরও জন্ম হয়।
তবে বিয়ের পর থেকেই সুমন স্ত্রী সাদিয়ার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। একইসঙ্গে মাদকাসক্তও এবং ঠিকমতো কাজ না করায় পরিবারিক কলহের সৃষ্টি হতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। এর পরে সাদিয়ার অন্যত্র বিয়ে ঠিক করে তার পরিবার।
সাদিয়াকে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় তার বোন তাছলিমা আক্তার বাদী হয়ে ১৭ অগাস্ট শিবচর থানায় সুমনসহ পাঁচ জনের নামে অ্যাসিড অপরাধ দমন আইনে মামলা করেন।
পরে গত ২৪ আগস্ট রাতে সুমনকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মাঝিরচর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে মাদারীপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।
[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেসবুক লিংক]