টেকনাফের পাহাড়ে লাশের খবর: অভিযানে মেলেনি কোনো মরদেহ
গহীন পাহাড়ে তিনটি লাশ পড়ে আছে- শুক্রবার শেষ বিকালের দিকে এমন একটি খবর আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে অভিযানের সময় মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, জিম্মিদের উদ্ধার এবং গুলিতে সেনাসদস্য নিহতের মধ্যে সেখানে লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লেও তার কোনো প্রমাণ পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গহীন পাহাড়ে তিনটি লাশ পড়ে আছে- শুক্রবার শেষ বিকালের দিকে এমন একটি খবর আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় এর কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার সকাল থেকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় ফের অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী। তবে তারা সেখান থেকে অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করলেও মরদেহের কোনো হদিশ পাননি।
অভিযান শেষে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “শনিবার সকাল থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসংলগ্ন পশ্চিম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানার সন্ধানে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি এবং কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।”
তবে পাহাড়ের আস্তানা থেকে রান্নার পাতিল, খাবার ও বিছানাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানে সেনাবাহিনী, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সমন্বয়ে ৩৫ সদস্যের একটি দল অংশ নেয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর-আইএসপিআর বৃহস্পতিবার জানায়, গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে এমন খবরের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালায়।
তখন উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে মো. তিতাস শেখ (২৮) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
শুক্রবারও সেই অভিযান চলে। এর মধ্যেই শুক্রবার স্থানীয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গহীন পাহাড়ে তিনটি লাশ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
পরে বিকালে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “অভিযান চলছে। লাশের খবরটা আমরা শুনেছি। এখন পুলিশ দেখবে যে কী অবস্থা।”
পাশাপাশি টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরীও বলেন, “এইরকম একটি মেসেজ আছে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত নই। আদৌ ওইখানে লাশ আছে, নাকি নেই। থাকলে কয়টা আছে।”
এই অবস্থার মধ্যেই যৌথবাহিনীর সদস্যরা শনিবার সকালে অভিযান শুরু করেন। পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, আপাতত অভিযান শেষ করা হলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে আবারও অভিযান চালানো হবে।
আরও পড়ুন:
