কুমিল্লায় অভিযান: শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ঠাঁই ২৭ কিশোরের
‘কিশোর গ্যাং’ বিরোধী অভিযানে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ ধাপে মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা জুড়ে পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২৭ কিশোরের ঠাঁই হয়েছে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
সর্বশেষ রোববার সকালে দুই কিশোরকে টঙ্গীতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান।
তিনি বলেন, “চলমান অভিযানে কারাগারে ৫০জন কিশোর আসে। যাদের সহসাই জামিন লাভের সম্ভাবনা নেই আদালতের নির্দেশে এমন কিশোরদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।”
এ পর্যন্ত ২৭ জনকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর কিশোররা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে দুই কিশোরকে ২১ সেপ্টেম্বর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
অপ্রতিম হত্যার পরপরই জেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম আলোচনায় উঠে আসে। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় একযোগে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান শুরু হয়।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্য মতে, সর্বশেষ শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ ধাপের অভিযানে মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এদের অধিকাংশই ছাত্র।
বাকি ৬২৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধ সংশ্লিষ্টতায় আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে চলমান অভিযানের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, এখানে দেড় হাজার বন্দীর বিপরীতে রোববার সকালে তিন হাজার ৫০০ বন্দী ছিল। এতে প্রচণ্ড গরমে গাদাগাদি করে বন্দীদের থাকতে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কষ্ট করে হলেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। সহসাই কারাগারের চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। আমরা চাচ্ছি যত দ্রুত ৪টি ভবন উদ্বোধন করতে।”
ভবন চারটি চালু হলে বন্দীদের আর কোনো সমস্যা থাকবে না বলে আশা করেন তিনি।
