Published : 16 Nov 2024, 04:17 PM
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার রাতে উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নড়িয়া থানার ওসি মুহাম্মদ আসলাম উদ্দিন মোল্লা।
এর আগে বিকালে মোক্তারের চরে পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয়রা।
সেই সভা শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলা করা হয় নড়িয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদের ওপর। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।
হাসপাতালে ভর্তি নাসির বলেন, অসাধু ড্রেজার ব্যবসায়ীরা রাতের আধারে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে পদ্মা নদীতে আবারও ভাঙন দেখা দিবে।
তাই পদ্মার বেড়িবাঁধ রক্ষার স্বার্থে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে নড়িয়া ও জাজিরার নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রতিবাদ সভা করা হয়।
“সেই প্রতিবাদ সভা শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী ফারুক চৌকদার ও ফজল মাদবরের নেতৃত্বে লিয়াকত হাওলাদার, সুমন, যুবরাজ দলবল নিয়ে অতর্কিতভাবে আমার ওপর হামলা করেছে। “
তিনি আরও বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। আমি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। হামলাকারী অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের বিচার চাই।”
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক স্বপন মাঝি বলেন, “অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি যারা নাসির উদ্দিনের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলা করেছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহম্মেদ রয়েল মাঝি বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় নাসির উদ্দিনকে হত্যা চেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং হামলাকারী ও ইন্ধনদাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।”
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বক্তব্যের জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
নড়িয়া থানার ওসি মুহাম্মদ আসলাম উদ্দিন মোল্লা বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”