Published : 09 Apr 2026, 04:13 PM
পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বৈসু’। এই উৎসবকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে বর্ণিল বৈসু শোভাযাত্রা থেকে ঐতিহ্য রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ ও বৈসু উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এ শোভাযাত্রা বের হয়।
এতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ঐতিহ্যবাহী ঢোল, বাঁশি বাজিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া চেলসি ত্রিপুরা ও সুরভী ত্রিপুরা বলেন, “বছর ঘুরে আবারো বৈসুর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক রিনা-রিসায় এবং গহনা পরে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে এসেছি। এখানে আমাদের নিজস্ব নৃত্য পরিবেশনা করা হচ্ছে।
“নতুন বছর আমাদের জন্য আরো সুখ-সমৃদ্ধি বয়ে আনুক এটাই প্রার্থনা করি।"
শোভাযাত্রার আগে খাগড়াছড়ি জেলা টাউন হলে বৈসুর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

এ সময় ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য জয়া ত্রিপুরা, বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক প্রভাংশু ত্রিপুরা,খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য ,সাধারণ সম্পাদক এইচএম প্রফুল্ল প্রমুখ ।
পরে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করে ত্রিপুরা শিল্পীরা। এসময় ত্রিপুরাদের নিজস্ব গরিয়া নৃত্য পরিবেশনা করে গরিয়া শিল্পীরা।
আয়োজকদের আশা এ উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের ঐক্যের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।

বৈসু উদযাপন সদস্য সচিব ধনেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, “ত্রিপুরাদের হাজার বছরের নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, সংগীত, নৃত্যসহ হারানো সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য এমন আয়োজন। এ সংস্কৃতির মাধ্যমে ঐক্যের বন্ধন রচিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।”
বৈসু উদযাপন কমিটির আহবায়ক ও বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সাধারণ শুভ্রদেব ত্রিপুরা জানায়, ত্রিপুরাদের বর্ষ বরণের মূল আয়োজন শুরু হবে আগামী ১২ এপ্রিল। চলবে তিন দিন। পুরোনো বছরের শেষ দুই দিন উদ্যাপন করা হবে হারি বৈসু, বৈসুমা আর নতুন বছরের প্রথম দিন উদ্যাপন করা হবে বিচি কাতাল।”