Published : 26 Jun 2026, 04:17 PM
খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নসংলগ্ন সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়েছে কোস্ট গার্ড।
বৃহস্পতিবার রাতভর এ অভিযানে বনবিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কয়রা থানা পুলিশের ওসি শাহ আলম। তবে কখন বা কার গুলিতে তিনি মারা গেছেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি।
ওসি বলেন, “শওকত সরদার নামে একজন নিহত হয়েছেন। তার মরদেহ কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আছে। “
৬০ বছর বয়সি শওকত মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহেশ্বরীপুর এলাকার ইজহার সরদারের ছেলে। থাকতেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেতুলতলা গুচ্ছপাড়ায়।
তেঁতুলতলার চর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, রাতে সুন্দরবনের গভীর থেকে একের পর এক গুলির শব্দের পাশাপাশি আগুনের শিখাও দেখা যায়। শতাধিক গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আতঙ্কে নারী-শিশুসহ অনেকেই বাড়ির বাইরে অবস্থান নেন।
অনেকেই প্রথমে ধারণা করেন, দুটি বনদস্যু বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। পরে সকালে কোস্ট গার্ডের সদস্যদের খোড়লকাঠী বাজার এলাকায় দেখা গেলে তাদের অভিযানের বিষয়টি জানা যায়।
মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান খোকন বলেন, “সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বনদস্যু চক্র সক্রিয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে তেঁতুলতলার চরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ রাতভর আতঙ্কে নির্ঘুম কাটিয়েছেন।”
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “গোলাগুলির ঘটনাটি আমাদের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন সুন্দরবনের ময়দাফেসা খাল এলাকায় ঘটেছে বলে বনরক্ষীদের কাছ থেকে জেনেছি। বর্তমানে ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা রয়েছেন।”
তেঁতুলতলার চর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কয়রা নদী। নদীর ওপারেই সুন্দরবন। গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা বননির্ভর। মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহের জন্য তাঁদের নিয়মিত সুন্দরবনে যেতে হয়।

‘দুলাভাই বাহিনীর’ প্রধান আহত
এদিকে কোস্ট গার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, অভিযানে দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম (৫০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
চিকিৎসা শেষে তাকে আবার সঙ্গে নিয়ে যান তারা। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বাহিনীটি।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে, কয়রার মহেশ্বরীপুর গ্রামের মানিক গাজীর ছেলে রবিউল ইসলামকে (৫০) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে হাসপাতালে নিয়ে যায় কোস্ট গার্ড। তার হাতসহ শরীরে গুলির ক্ষত ছিল।
তেঁতুলতলার চর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এ রবিউল ইসলামই বনদস্যু দুলাভাই বাহিনী প্রধান।
একসময় সুন্দরবনের ত্রাস ছিল ‘ইলিয়াস বাহিনী’। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালে ইলিয়াসের বোনের স্বামী রবিউল নতুন দল গড়ে তুললে, স্থানীয় লোকজন এর নাম দেন ‘দুলাভাই বাহিনী’।
শুক্রবার সকালে কোস্টগার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “বৃহস্পতিবার রাত থেকে এখনো পর্যন্ত সুন্দরবনে আমাদের অভিযান চলছে। কুখ্যাত দুলাভাই বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেন অভিযানে রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে বিস্তারিত জানানো হবে।”