Published : 20 May 2026, 10:55 PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদ ও শিক্ষার্থীরদের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে পর পর দুদিনে নারীদের নেতৃত্বে দুটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা এসেছে।
সবশেষ বুধবার বিকাল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রীরা।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা অনুষদের সামনে থেকে নারী শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’ নামে আরেকটি প্ল্যাটফর্মের ঘোষণা দেন।
‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ আত্মপ্রকাশের সময় প্ল্যাটফর্মটির সংগঠক একদল শিক্ষার্থী ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও নারী শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক যৌন হয়রানির প্রতিবাদে মৌন মিছিল করেন।
বিকাল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ছবি চত্বর ঘুরে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
পরে প্ল্যাটফর্মটির পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ১২ মে রাত ১১টা ১৩ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল চত্বরে এক নারী শিক্ষার্থী বহিরাগত এক ব্যক্তির ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হন। এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার ধারাবাহিক প্রকাশ।
এতে বলা হয়, এর আগে ৫৩তম আবর্তনের এক নারী শিক্ষার্থী আরেক শিক্ষার্থীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হন এবং পরে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে পড়েন। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে একাধিক শ্রমিক নিহত হওয়া, ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রাচির দুর্ঘটনায় মৃত্যু এবং প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনাগুলো কার্যকর প্রতিকার ছাড়াই চাপা পড়ে যাচ্ছে।
বক্তব্যে বলা হয়, “আমরা শুধু একটি ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাস্তায় নামিনি, আমরা একটি দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার অবসান চাইছি।”
শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা শুধু প্রশাসনের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন, ফলাফল দেখতে চান। ঈদের ছুটির আগেই প্রতিকারমূলক দাবিগুলোর নিষ্পত্তি চান। নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সব নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ প্লাটফর্মটির সংগঠক জাফনা আঞ্জুম বলেন, সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, আন্দোলন চলাকালে ১৩ মে থেকে ১৯ মে পর্যন্ত আরও চারটি নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। এমনকি আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক নারী শিক্ষার্থী অন্য এক শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ জানাতে গিয়ে নিজেই নিরাপত্তা কার্যালয়ের সামনে যৌন হেনস্থার শিকার হন।
জাফনা আঞ্জুমের অভিযোগ, এসব ঘটনায় প্রশাসন বরাবরই অসহযোগিতামূলক ও দায়িত্বহীন আচরণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা থেকেই ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ১২ মে’র ঘটনার পর রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৩ মে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, যার সঙ্গে সবাই একমত ছিলেন।
“পরবর্তীতে নারী শিক্ষার্থীদের আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলনের পরবর্তীতে কর্মসূচিগুলো পরিচালিত হয়। নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা থেকেই একটি প্লাটফর্ম গঠনের প্রয়োজন অনুভূত হয়।”
তবে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া কিছু নারী শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কিংবা ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই পৃথক একটি প্লাটফর্ম ঘোষণা করেছেন। তাদের দাবির সঙ্গে আগের ছয় দফা দাবির কিছু অমিল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জাফনা আঞ্জুম বলেন, “আমাদের প্লাটফর্মের উদ্দেশ্য পরিষ্কার। আমরা শুধু ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়াতে এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। তবে কারও সঙ্গে আলোচনা না করে, ভুক্তভোগীর মতামত না নিয়ে কেন আলাদা প্লাটফর্ম গঠন করা হলো, সে বিষয়ে আমরা অবগত নই।”
আরও পড়ুন:
জাবিতে 'নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন' নামে নতুন প্ল্যাটফর্ম
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বহিরাগতকে গ্রেপ্তারের আশ্বাসে
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: প্রক্টর অফিসের পর রেজিস্ট্রার ভবনেও তালা
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তদন্তে ৭ জনের কমিটি
জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা: আসামিকে গ্রেপ্তারসহ পাঁচ দাবি জাকসুর