Published : 24 May 2026, 09:57 PM
কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফটকের তালা ভেঙে মাঠে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ ওঠেছে।
রোববার দুপুরে কলেজ ফটকের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে হাট বসানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ মজিবল হায়দার চৌধুরী।
জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমক এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি চিলমারী উপজেলা শহরের বাসিন্দা।
অধ্যক্ষ বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর নিয়ম নেই। এ কারণে স্টাফ কাউন্সিলের সভায় কলেজ মাঠে হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বুধবার বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক ও থানাকে জানানো হয়েছিল।”
তিনি বলেন, “লিখিতভাবে জানানোর পরও আমি নিজে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে জানিয়েছি। সকালে কলেজ চত্বরে পুলিশও এসেছিল। এরপর হাট আয়োজকদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে জানি না। কিছুক্ষণ পর পুলিশ চলে গেলে আয়োজকরা গেইটের লাগানো তিনটি তালা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে। কলেজ মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে গরু-ছাগলের হাট বসায়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিহাদ ফেরদৌস চমক। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও জামানতের টাকা জমা দিয়ে অস্থায়ী হাট বসানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত রসিদ তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, এটি একটি অস্থায়ী ও পুরনো হাট। অনেক বছর ধরেই এখানে হাট বসে আসছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, হাট বসানোর জন্য আবেদন করা হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানকে মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। বার্তা পাঠিয়েও জবাব পাওয়া যায়নি।
চিলমারী থানার ওসি নয়ন কুমার বলেন, হাট বসানোর বিষয়ে তারা অবগত। আয়োজকদের কাছে টাকা জমার রসিদ ছিল এবং বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছিল।