বাজারে এসেছে নওগাঁর আম
বর্তমানে গুটি জাতের আম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা এবং গোপালভোগ এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁয় গাছ থেকে গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এবার জেলায় আমের ফলন কম হওয়ায় দাম বৃদ্ধি হবে বলে মনে করছেন চাষিরা।
আম চাষিরা জানান, প্রচণ্ড খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে এ বছর অনেক আম গাছ থেকে ঝরে পড়েছে। এতে বাণিজ্যিকভাবে আম উৎপাদনকারী বরেন্দ্রভূমি খ্যাত পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর উপজেলাসহ পুরো জেলায় আমের ফলন গতবারের চেয়ে অনেক কম হয়েছে।
মহাদেবপুরের উত্তরগ্রামের আম চাষী ও বাগান মালিক রফিকুল ইসলাম, এবারে খরার কারণে আম গাছ থেকে ঝরে পড়ায় ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। ভালো দাম না পেলে আম চাষিরা এবার চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন।
বর্তমানে গুটি জাতের আম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা এবং গোপালভোগ এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাপাহার উপজেলা সদরের আম চাষী বাবুল আখতার ও মাসিরা চৌধুরি বলেন, এবারে জেলার প্রায় অর্ধেক গাছে আম নেই। যে সামান্য পরিমাণ আম এসেছিল অনাবৃষ্টিতে সেই আমও ঝরে গেছে। কাজেই এবার জেলার আমের ফলন অর্ধেকে নেমে আসবে। এ কারণে এবার আমের দাম বাড়ারও সম্ভবনা আছে।
এদিকে নওগাঁয় জাতভেদে গাছ থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সূচি অনুসারে বৃহস্পতিবার থেকে গুটি আম বাজারজাত করা যাবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উন্নত জাতের আমের মধ্যে গোপালভোগ ৩০ মে, হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত ২ জুন থেকে থেকে পাড়া যাবে।
এ ছাড়া নাগ ফজলি ৫ জুন, ল্যাংড়া ১০ জুন, আম্রপালি ১৮ জুন ও ফজলি ২৫ জুন থেকে পাড়তে পারবেন চাষিরা। সর্বশেষ ১০ জুলাই থেকে পাড়া যাবে আশ্বিনা, বারি-৪, গৌড়মতি, ব্যানানা ম্যাংগো।
এই সময়সূচি ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে গাছ থেকে অপরিপক্ক আম সংগ্রহ করে তা কেমিকেল দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আবহাওয়া, তাপমাত্রা কারণে আগেই আম পেকে গেলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি অফিসের অনুমতি নিয়ে আগে আম পাড়া যাবে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির বাগানে আম চাষ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করেছে কৃষি বিভাগ।
উৎপাদিত আম সাড়ে তিন হাজার কোটি থেকে চার হাজার কোটি টাকায় বিক্রি হবে বলেও আশা কৃষি বিভাগের।
