Published : 21 May 2025, 09:26 PM
পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ-পিসিপির সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে।
সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে রুমেন চাকমাকে সভাপতি, সুপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যাকে সাধারণ সম্পাদক এবং সৈসানু মারমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
বুধবার রাঙামাটি জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে দিনব্যাপী পিসিপির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ও প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫ থেকে এই নতুন কমিটির ঘোষণা করা হয়।
‘সকল প্রকার বিভেদ ও জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থি ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করুন; পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে জুম্ম ছাত্র সমাজ অধিকতর সামিল হউন’- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই কাউন্সিল ও প্রতিনিধি সম্মেলন হয়।
নতুন কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান বিদায়ী কমিটির সহসভাপতি খোকন চাকমা। কাউন্সিলে তিন পার্বত্য জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, কলেজ, শহর, ইউনিয়ন কমিটি থেকে প্রায় তিন শতাধিক প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
রাতে নতুন কমিটির তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অন্বেষ চাকমার সই করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে পিসিপির বিদায়ী কমিটির অর্থ সম্পাদক টিকেল চাকমার সভাপতিত্বে এবং সহসাধারণ সম্পাদক জিকো চাকমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার।
প্রথমে অধিবেশনে আর্ন্তজাতিক, জাতীয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সাংগঠনিক অবস্থা ও আর্থিক প্রতিবেদন সম্বলিত সামগ্রিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুমেন চাকমা।
ঊষাতন তালুকদার বলেন, “সমাজ পরিবর্তন ও অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অগ্রভাগে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্মদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের আন্দোলনেও সেই শিক্ষিত সমাজ এগিয়ে এসে জুম্ম জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, ছাত্রসমাজ একটা ভাসমান শ্রেণি। এই শ্রেণি থেকে জুম্মদের আন্দোলনে সুবিধাবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী উত্থানের ইতিহাসও আছে।
“আমাদের আন্দোলন হচ্ছে জাতীয় মুক্তির আন্দোলন। এই আন্দোলনে জুম্মদের মধ্যে সব শ্রেণির ভূমিকা থাকা উচিত। পার্টির আন্দোলনের নীতি-কৌশল বুঝতে না পেরে, উপলব্ধি করতে না পেরে পার্টিবিরোধী শাসকগোষ্ঠীর মদদে অনেক প্রতিক্রিয়াশীল বিভেদপন্থী গোষ্ঠী আমাদের আন্দোলনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনটাকে এগিয়ে নিতে পারত। কিন্তু বিভেদপন্থিরা জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের পথে এগিয়ে আসেনি।”
দ্বিতীয় অধিবেশনে পিসিপির বিদায়ী কমিটির সভাপতি নিপন ত্রিপুরার সভাপতিত্বে এবং সহসাধারণ সম্পাদক জগদীশ চাকমার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জুয়েল চাকমা।
অধিবেশনে বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সহসাংগঠনিক সম্পাদক সতেজ চাকমা। দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে ১৩ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন বিদায়ী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুপ্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা এবং সেই প্রস্তাবনা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।