১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ওই ছাত্রী স্কুল থেকে ফিরে বাড়ি আসেনি। খোঁজাখুঁজির পর বিকালে ধানক্ষেত থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jul 2026, 04:10 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:43 PM

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ৯ বছর বয়সি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। 

জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. ইয়াছির আরাফাত বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি  (এপিপি) আব্দুল মোতালেব মজুমদার। 

দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম মফু (৩৮) সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা। রায়ে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। রায়ের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

আইনজীবী আব্দুল মোতালেব মজুমদার বলেন, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল শিশুটি স্কুল থেকে ফিরে আসেনি। দীর্ঘসময় খোঁজাখুঁজি করেও না পাওয়ায় শিশুটির মা ওই দিন দুপুরে সদর দক্ষিণ থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। 

পরে বিকালেই গলিয়ারা ইউনিয়নে যাবার পথে খেয়াইশ ঠাকুর বাড়ি সংলগ্ন ধান ক্ষেত থেকে শিশুটির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় তার স্কুল ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা। 

এই ঘটনায় নিহতের মা তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সদর দক্ষিণ থানায় মফিজুল ইসলাম মফু ও অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।

পরে ১ মে র‌্যাব আসামি মফিজুল ইসলামকে চাঁদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে সোপর্দ করে এবং মফিজুল শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। 

এপিপি আব্দুল মোতালেব মজুমদার বলেন, আদালত মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি মফিজুল দোষী প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। 

রায় ঘোষণার সময় মামলার বাদি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি বদিউল আলম সুজন বলেন, “বিচার চলাকালে মাত্র উনিশটি শুনানির কার্য দিবসের মধ্যে এই রায় দেওয়া বিচার বিভাগের অনন্য নজির। আমরা মনে করি বাদীপক্ষ ন্যায় বিচার পেয়েছেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ এতে সন্তুষ্ট।”