Published : 16 Feb 2026, 12:08 AM
গাজীপুর মহানগরীতে উদ্বোধনের আগেই একটি সড়ক ভেঙে কয়েক ফুট দেবে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কয়েক দিন আগে ঢালাই শেষ হওয়া কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এমন বেহাল অবস্থা দেখে এলাকাবাসী কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, তুরাগ নদের পশ্চিম তীরে বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউসিসিএল। দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্যাকেজ নম্বর-১২ এর অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে পরবর্তীতে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ টাকায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, প্যাকেজ নম্বর-৫ এর আওতায় প্রায় ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। কিন্তু এখানেও ব্যয়ের পরিমাণ বেড়ে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১৪ কোটি ২৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৯ টাকায়।
প্রকল্পের আওতায় ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, ফুটপাত নির্মাণ, রেলিং ও গার্ড ওয়াল তৈরির কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে তড়িঘড়ি করে রাস্তার ঢালাই কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু ঢালাইয়ের তিন দিনের মাথায় সড়কে বড় ফাটল দেখা দেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি অংশ কয়েক ফুট নিচে দেবে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত ঢালাই না করায় রাস্তার এই দুরবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে রাস্তার বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা যাচ্ছে; যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, কাশিমপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় কয়েক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও মাঝামাঝি অংশে প্রথমে ফাটল ধরেছে এবং রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পুরো সড়কই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, “নদীর পাড়ে রাস্তা হওয়ায় এটি প্রাকৃতিক কারণেও হতে পারে। পরিকল্পনায় ত্রুটি থেকেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিস্তারিত বলা যাবে।”
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশীদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।”