Published : 19 Aug 2024, 01:36 PM
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার একদিন পর অফিস করতে শুরু করেছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। তবে কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না সিটি মেয়র-কাউন্সিলরদের।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।
এর আগে রোববার ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে নগর ভবনে যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তালা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। অবশ্য ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি রোকনুজ্জামান সরকার তখন দাবি করেছিলেন, তালা দেওয়ার ঘটনায় তাদের কেউ জড়িত নয়।
সকালে অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ। তার সঙ্গে মহানগর বিএনপির সদস্য রতন আকন্দ, উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান লিটন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টিটু, সহসভাপতি রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম উজ্জ্বল ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি মাহাবুবুর রহমান রানাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে তালা, মেয়র-এমপিকে গ্রেপ্তারের দাবি
এ সময় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলীকে ফোন করেন আবু ওয়াহাব আকন্দ। সিটি মেয়র ও কাউন্সিলরদের ঢুকতে না দেওয়া হলেও ইউসুফ অফিস করতে পারবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করেন।

বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারি অফিসে প্রবেশ করলেও খোলা হয়নি কার্যালয়ের বেশির ভাগ কক্ষ। কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক অনেকটাই কম।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারি জানান, ভয় আতঙ্কে অনেকেই এখনও কাজে যোগ দেয়নি। তবে মেয়র ও কাউন্সিলদের ছাড়া আর কাউকে অফিসে বাঁধা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, “বিনা ভোটের বিতর্কিত নির্বাচনে যেসব জনপ্রতিনিধি সাগর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের অফিস করতে দেওয়া হবে না। তবে কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কাজে কোন বাঁধা নেই।”
অবিলম্বে সাগর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
গত ১৯ জুলাই শুক্রবার কোটা সংস্কার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন রেদুয়ান হোসেন সাগর (২৪)।
ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া চৌরঙ্গীমোড় এলাকার মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে সাগর জেলার ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।