Published : 06 May 2026, 06:03 PM
মৎস্য আহরণকারী কিংবা জেলেরাও কৃষক কার্ডের আওতায় পড়বেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
তিনি বলেছেন, “মৎস্য আহরণকারী ও মৎস্যখামারী যারা রয়েছেন, তারাও কৃষক কার্ডে সম্পৃক্ত হবেন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হবে। এই কার্ডে অন্তত দশটি সুবিধা বিদ্যমান থাকবে।”
বুধবার দুপুরে রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের মৎস্য অবতরণ ঘাট কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কাপ্তাই লেকে আগে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত, বর্তমানে আমরা তা পাচ্ছি না। এই লেকের মাছ এলাকার মৎস্যজীবীরাই ধরবেন। কাজেই মাছগুলোকে বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এতে করে মানুষের খাদ্যের চাহিদা যেন আমরা পূরণ করতে পারি।”

কাপ্তাই লেক দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত জানিয়ে টুকু বলেন, “কাপ্তাই লেক আমাদের দেশের সম্পদ। এই লেককে আমরা কখনো দূষণ করব না। আমরা যদি নিজের থেকে সচেতন হই তাহলে অনেকাংশে এই লেক দূষণমুক্ত রাখতে পারব।
“তা না হলে এক সময় দূষণ হতে হতে এ লেক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। কাজেই এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন হতে হবে। যারা পর্যটনের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
এ ছাড়া কাপ্তাই লেকের নাব্যতা রক্ষায় খনন কাজের পরিকল্পনার কথা বলেছেন মৎস্য প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চেয়ারম্যান মো. ইমাম উদ্দীন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অনুরাধা ভদ্র, রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মো. মোবারক হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার বি এম নুরুজ্জামান এবং জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন বক্তব্য দেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার কাপ্তাই হ্রদ নির্ভরশীল ২৬ হাজার ৮৪৫টি জেলে পরিবারকে প্রথম ধাপে পরিবার প্রতি ৪০ কেজি করে মোট এক হাজার ৭৪ টন চাল বিতরণ করা হবে। চলতি মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে ৬০ টনের বেশি মাছের পোনা ছাড়ার লক্ষ্য রয়েছে বিএফডিসির।