কুমিল্লায় মসজিদের ইমামের জন্য সাহায্য চাওয়া নিয়ে তুলকালাম

নামাজ পড়তে আসা লোকদের ওপর হামলা। মসজিদ কমিটির এক নেতার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Feb 2024, 07:34 PM
Updated : 9 Feb 2024, 07:34 PM

কুমিল্লার একটি মসজিদের ইমাম ও খতিবের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি ও একজনের বাড়িতে হামলা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

তারা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর হযরত পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, হযরত পাড়া গাউছিয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের চিকিৎসার জন্য মসজিদ কমিটি এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিয়ে প্রথমে মসজিদের ভেতরে হট্টগোল এবং পরে মসজিদের বাইরে দা-ছেনি নিয়ে হামলা শুরু হয়। খবর পেয়ে কোতয়ালি মডেল থানার চকবাজার ফাঁড়ির পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মসজিদটির ইমাম ও খতিব কাওসার আহমেদের হার্টে রিং পরাতে বলেছেন চিকিৎসক। তবে তার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব না। এজন্য মসজিদ কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা চান। 

জুমার নামাজে খুতবার পর জামালসহ অন্যরা নামাজ পড়তে আসা মানুষদের কাছে ইমামের জন্য সহযোগিতা চান। এতে হাবিবুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠলে মসজিদে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর শওকত আকবর দুই পক্ষকে বুঝিয়ে জুমার নামাজ পড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করেন।

নামাজ শেষে হাবিবুরের ছেলে আশিকুর রহমান ও রিফাত রহমান মসজিদের বাইরে দা-ছেনি নিয়ে ইমামের জন্য সহযোগিতা চাওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলা করেন। এ সময় নিয়াজ নামে একজনের হাত কেটে যায়, আরো ১০ জনের মত আহত হন।

পরে হাবিবুরের অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মসজিদ কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জামালের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙচুর ও আসবাবপত্র লুটপাট করে।

স্থানীয় কাউন্সিলর শওকত আকবর বলেন, “মসজিদের ইমামের সহযোগিতা চাওয়া নিয়ে এ সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাটি দুঃখজনক।”

আহত নিয়াজের স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, “হাবিবের নেতৃত্বে তার ২ ছেলে অন্যান্য এলাকার সন্ত্রাসীদের নিয়ে মুসল্লিদের ওপর হামলা করে। আমার স্বামীর হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে।”

এ বিষয়ে জানতে হাবিবুর রহমানের ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”