Published : 07 Aug 2026, 03:42 PM
সিলেটের ওসমানীনগরে একটি ‘পিকআপ ভ্যানকে পাশ কাটাতে’ গিয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নয়জনের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ওসমানীনগর থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলছেন, দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই ‘ইউনিক পরিবহন’ বাসের যাত্রী।
পুলিশ বলছে, এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। তবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত অবস্থায় ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঢাকাগামী ‘বেঙ্গল পরিবহনের’ একটি বাস একটি পিকআপ ভ্যানকে পাশা কাটাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা সিলেটগামী ‘ইউনিক পরিবহনের’ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “সকালে ভাইয়ের ডাকে ঘুম থেকে উঠি। পরে শুনি গাড়ি দুর্ঘটনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি দুই বাসের সংঘর্ষ হয়েছে। দুই বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল।
“বেঙ্গল পরিবহনের বাসটির পাশে একটি পিকআপ ছিল। সেটিকে ওভারটেক করতে গিয়েই দুই বাসের সংঘর্ষ হয়।”
তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে এসে দেখি অনেক মানুষ মারা গেছেন, অনেকেই আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। আমরা সবাই মিলে বাস থেকে লাশগুলো বের করি। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে যোগ দেন।
“আমরা লাশগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা, আমরা খুব কষ্ট পেয়েছি।”
হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন- কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জাহাঙ্গীরের মেয়ে ফাইজা (৩), সিলেট নগরীর সোবাহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২) এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বালুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)।
দুই বাসের সংঘর্ষে আহত কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ফারুক মিয়া (৫২) বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফারুক মিয়া জানান, পাঁচ বন্ধু হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন উড়োজাহাজে করে ঢাকায় ফিরে যান। পরে তিনি ও অপর দুই বন্ধু ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার সময় আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে আহত অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ দুর্ঘটনায় আমার বন্ধু সাইফুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। সাইফুল পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি আনিসুর রহমান বলেন, “ঢাকা থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাস পিকআপ ভ্যানকে পাশ কাটাতে যায়। এ সময় সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।”
তিনি বলেন, “নিহতরা সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী। আহতদের বেশির ভাগও ওই বাসের যাত্রী।”
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর বলেন, “আমরা হাসাপাতালে আহত অবস্থায় ১৬ জনকে পেয়েছি। তাদের মধ্যে দুই জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
“বাকি ১৪ জনের মধ্যে দুই জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। আইসিইউতে তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”