সাজেক ভ্রমণে বাধা নেই, যাচ্ছে তদন্ত কমিটি
পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হলেও একদিনের ব্যবধানে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হলেও একদিনের ব্যবধানে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানের স্বাক্ষর করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সোমবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তা বিবেচনায় সাময়িকভাবে সাজেকে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি এবং পর্যটকদের ভ্রমণ বিষয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
“সভায় মঙ্গলবার বিকাল থেকে সাজেকে পর্যটক ভ্রমণ উন্মুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।”
বুধবার যাচ্ছে তদন্ত কমিটি
অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ উদ্ঘাটনে গঠিত জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি বুধবার সাজেক যাচ্ছে। কমিটি সাতদিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেবে।
কমিটিতে জেলা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. মোবারক হোসেনকে আহ্বায়ক এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী পুলিশ সুপার (বাঘাইছড়ি সার্কেল), রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (দীঘিনালা) সহকারী প্রকৌশলী।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বুধবার
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯৮টি রিসোর্ট-কটেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কটেজ ৩৬টি, বসতঘর ৩৫টি, রেস্টুরেন্ট সাতটি ও দোকান ২০টি।
৯৮ প্রতিষ্ঠান ও বসতঘরের জন্য ১৫ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং এক হাজার ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি পরিবার সাড়ে সাত হাজার টাকা এবং ৩০ কেজি করে চাল পাবে। আর প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পাবে ২০ হাজার টাকা করে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, সরকারি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০১২-১৩ অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের বুধবার সহায়তা দেওয়া হবে।
তবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ অনেক কম হয়েছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের জেলা সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার। তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্যের বাজারদরের সঙ্গে এটি এখন যুগোপযোগী নয়। সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, এটি যুগোপযোগী করা হোক।”
আরও পড়ুন:
