২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮ কার্তিক ১৪৩৩

সাজেকে পুড়ল রিসোর্ট-কটেজসহ ৯৫ স্থাপনা

পানি সংকটের কারণে দ্রুত আগুন নেভানো যায়নি।

সাজেকে পুড়ল রিসোর্ট-কটেজসহ ৯৫ স্থাপনা
সোমবার রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯৫টি স্থাপনা পুড়ে গেছে।

রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Feb 2025, 12:38 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:34 PM

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯৫টি স্থাপনা পুড়ে গেছে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনার পর সাময়িকভাবে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন। 

সোমবার দুপুরে পর্যটনকেন্দ্রের ‘অবকাশ ম্যানুয়েল রিসোর্ট’সহ আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

রাতে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন এক প্রতিবেদনে বলেন, আগুন মুহূর্তেই আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনে প্রায় ৯৫টি রিসোর্ট, ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। 

এদিকে, সাজেক ভ্যালিতে আগুনের ঘটনায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সঙ্গে জেলা ইউনিটও কাজ করছে। 

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানি সংকটের কারণে দ্রুত আগুন নেভানো যায়নি। এ ছাড়া দীঘিনালা, খাগড়াছড়িসহ অন্যান্য উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে সময় লাগার কারণে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে গেছে। 

সাজেকে ভয়াবহ আগুন, পুড়েছে ২০ রিসোর্ট

সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে সাজেকের আগুন

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ক্ষয়ক্ষতি কী পরিমাণ হয়েছে তা এখনো সঠিক বলা যাচ্ছে না। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেছে। সঠিক তথ্য জানাতে একটু সময় লাগবে, কারণ এই মুহূর্তে তাৎক্ষণিক আমরা কিছুই বলতে পারতেছি না।”

১৬৭ নম্বর রুইলুই মৌজার হেডম্যান লাল থাঙ্গা লুসাই বলেন, “আগুনে আমার বসতবাড়িসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা পুড়ে গেছে।”

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, “বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে শুনছি। তবে সেটি পরে তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। আপাতত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণে কাজ চলছে।”

খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাকের হোসেন বলেন, “বিকাল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও আগুন যাতে অন্যত্র ছড়াতে না পারে সেজন্য পানি ছিটানোর কাজ করা হয়েছে। তবে এলাকাটি পাহাড়ের উপরে হওয়াতে পানি নিয়ে সংকটে পড়তে হয়েছে।”

পর্যটক ভ্রমণে নিরুৎসাহ

রাত সাড়ে ৮টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পাঠান মো. সাইদুজ্জামানের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সাজেকে পর্যটক ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে মঙ্গলবার থেকে পরবর্তীতে নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।