Published : 25 Jun 2026, 02:11 PM
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত আরেক মেয়েকে ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে আটক করে পিটিয়ে আহত করেছে স্থানীয়রা।
বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি বাসায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন সহকারি পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ।
নিহতরা হলেন, ওই এলাকার মৃত মো. কামালের স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৩৮), বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। তাদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলে ভাড়া থাকেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন মেঝো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭)। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মো. কামালের পরিবার ওই ভাড়া বাসায় থাকেন। কয়েক বছর আগে কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তার স্ত্রী শাহীনুর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ওই বাসাতেই বসবাস করছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তিন মেয়েসহ শাহীনুরকে কোপানোর ঘটনা ঘটে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয়রা ঘটনাটি জানতে পেরে তাদের উদ্ধার করে।
পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অজ্ঞাত এক যুবককে আটক করে পিটুনি দেয় স্থানীয়রা।
পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে ও যুবককে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতাল পাঠায়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে উত্তেজিত জনতার ইট পাটকেলে আহত হন পুলিশের ছয়-সাত সদস্য।
তবে কি কারণে ঘটনা ঘটেছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা বলতে পারেনি কেউ।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, “হাসপাতালে ৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। তার এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো করা হয়েছে। তাদের সকলের শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
“এছাড়া একজনকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়। তার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ”
সহকারি পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, নিহত ৩ জনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের পিটুনিতে আহত যুবককে চিকিৎসাধীন আছে।
“এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইটপাটকেল ছুড়লে আমাদের ৬-৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন”, বলেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।
কেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।