Published : 09 Apr 2026, 10:28 AM
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে। নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করছেন ভোটররা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী ও পুরুষ ভোটাররা সুশৃংখলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভোট চলবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
শ্রীবরদীর চিথলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়ে মাহবুবুন নাহার লিপি বলেন, “সকাল সকাল এসে ভোট দিলাম। অনেকদিন পর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারলাম। তাই খুশি লাগছে।”
একই কেন্দ্রের ভোটার আবু বকর সিদ্দিক, মমতাজ উদ্দিন বলেন, গত ১৭ বছর কোনো ভোট দিতে পারিনি। আজকের ভোটকেন্দ্রের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দেখে খুব ভালো লাগছে।”
এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সকাল থেকেই ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হয়ে সুশৃংখলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এখানে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো অসুবিধা নেই।”

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করায় নির্বাচন কমিশন এ আসনের ভোটের কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করে।
পরবর্তীতে পুনঃতফসিলে ৯ এপ্রিল এ আসনে ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এবার ভোটের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদের মিজানুর রহমান।
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন।
শ্রীবরদী উপজেলায় ৭২টি এবং ঝিনাইগাতী উপজেলায় ৫৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষ আছে।
নির্বাচনে ১২৮ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৭৫১ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ৫০২ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি প্রতি ভোটকেন্দ্রে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য এবং ১৩ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করছে এবং আরো চারটি টিম রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচনে পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া টহল টিম হিসেবে দুই শতাধিক সেনাবাহিনী সদস্য কাজ করছে।
এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন ১৪ জন নির্বাহী হাকিম, দুই উপজেলায় দুজন বিচারিক হাকিম এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির তিনজন যুগ্ম জেলা জজ।