Published : 19 Nov 2025, 01:08 PM
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ফুলজোড় নদী থেকে গরুর ব্যাবসায়ীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ওই গরুর ব্যাবসায়ী এবং তার বোনজামাইয়ের ‘প্রেমের সম্পর্কের’ জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম শাহরিয়ার শহিদ বাপ্পী তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের এসআই নাজমুল হক।
গ্রেপ্তাররা হলেন–সলঙ্গা থানার চর ফরিদপুর গ্রামের গফুর সেখের ছেলে মাসুদ রানা (৪০), একই গ্রামের মান্নান মণ্ডলের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৪২), প্রবাসী মতিউর রহমানের স্ত্রী শাহিনুর খাতুন (৪০) ও রায়গঞ্জ উপজেলার দোস্তপাড়ার মন্তাজ আলীর ছেলে ও নিহতের বোন জামাই রফিকুল ইসলাম (৪০)।
নিহত আব্দুল লতিফ (৪০) চর ফরিদপুর গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে। গরু কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত লতিফ গত ৯ নভেম্বর রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
পরে ১২ নভেম্বর সকালে বাড়ির পাশের ফুলজোড় নদী থেকে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের এসআই নাজমুল হক বলেন, আব্দুল লতিফকে হত্যার ঘটনায় মামলা হলে তদন্ত শুরু করে সিরাজগঞ্জ ডিবি পুলিশ। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ‘ক্লুলেস’ মামলাটির আসামিদের শনাক্ত করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় অল্প সময়ের ব্যবধানে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার গ্রেপ্তারদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে সন্ধ্যায় তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারদের জবানবন্দির বরাতে এসআই নাজমুল বলেন, “প্রবাসীর স্ত্রী শাহিনুর ও আব্দুল লতিফ প্রতিবেশী। প্রায় দুই বছর আগে তারা পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
“সম্পর্ক চলা অবস্থায় শাহিনুরের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার নিয়েছিল লতিফ। কিন্তু পাওনা টাকার তাগাদা দেওয়ায় কিছুদিন আগে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়।”
তিনি বলেন, “এ অবস্থায় লতিফের বোন জামাই রফিকুলের সঙ্গে শাহিনুরের অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তখন তারা দুইজন লতিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং দুই লাখ টাকায় বিনিময়ে পাঁচ জনকে ভাড়া করেন।”
গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তির বরাতে ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে এসআই নাজমুল বলেন, “সেদিন রাতে শাহিনুর মোবাইল করে লতিফকে নদী তীরে নিয়ে যায়। তারা সেখানে গেলে লুকিয়ে থাকা অন্যরা লতিফের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে।
“এরপর লতিফের মরদেহে ইট বেধে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।”
নাজমুল বলেন, আব্দুল লতিফ হত্যায় মোট সাতজন অংশ নিয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতক আরও তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন