Published : 10 Apr 2026, 09:56 PM
নরসিংদীর বেলাব উপজেলার আব্দুল্লাহ নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ও পরীক্ষার ফল নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমানের মৃত্যুর পর সহকারী দুই শিক্ষককে পালা করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে; যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রমে।
বর্তমানে ওই দুই শিক্ষককে প্রেষণে অন্য স্কুলে পাঠানো হয়েছে। এখন বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। ১৪১ জন শিক্ষার্থীর জন্য এখানে কমপক্ষে ছয়জন শিক্ষক থাকার কথা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ঠিকমতো খাতা না দেখেই ফল দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষক সংকট ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রেষণে যাওয়ার আগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা শরিফা আক্তার বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সহকর্মীদের অসহযোগিতার কারণে তিনি সমস্যার সম্মুখীন হন। খাতা মূল্যায়ন ছাড়াই ফল প্রকাশের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছিল।
বেলাব উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা মো. কবির হোসেন বলেন, “দুই শিক্ষকের মধ্যে দ্বন্দ্বসহ বিভিন্ন কারণে তাদের ডেপুটেশনে (প্রেষণে) পাঠানো হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন ও মো. ইউসুফকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।”
একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে তৃতীয় প্রান্তিক বার্ষিক পরীক্ষা এবং ২০২৫ সালের প্রথম ও তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষায় একাধিক বিষয়ের খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
তাদের অভিযোগ, চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ও ইসলাম শিক্ষা এবং ২০২৫ সালের পরীক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ও বিজ্ঞান, চতুর্থ শ্রেণির গণিত ও তৃতীয় শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা মূল্যায়ন ছাড়াই ফল প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নও মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় খাতা না দেখেই চূড়ান্ত তালিকায় নম্বর দেওয়া হয় বলেও দাবি অনেক অভিভাবকের।
অভিভাবকদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক নিজেরা খাতা মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে খাতা দেখিয়ে নেন। একইসঙ্গে পছন্দের শিক্ষার্থী ও প্রাইভেট পড়ুয়াদের বেশি নম্বর দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অনেক শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পাঠ্যসূচি থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
বেলাব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলেখা শারমিন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”