২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ না করার নির্দেশ জামায়াত এমপির!

অনুষ্ঠানের আগের দিন মোবাইল ফোনে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য এমন নির্দেশনা দিলেও সকাল ৮টার আয়োজনে কোরআন পাঠের পাশাপাশি গীতা পাঠও করা হয়।

রাজশাহী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Mar 2026, 07:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:15 PM

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ না করতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে অনুষ্ঠানের আগের দিন বুধবার মোবাইল ফোনে স্থানীয় এই সংস্দ সদস্যের দেওয়া নির্দেশনা শোনেননি তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় তানোর ডাকবাংলো মাঠে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোরআন পাঠের পাশাপাশি গীতা পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে গীতা পাঠকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যের নির্দেশনা নিয়ে ইউএনও নাঈমা খানের সঙ্গে কয়েকজনের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায়। ঘটনাটি ঘিরে চলেছে আলোচনা-সমালোচনা।

এ বিষয়ে ইউএনও নাঈমা খান বলেন, “অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য মঙ্গলবার রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য স্যারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তখন এমপি মৌখিকভাবে গীতা পাঠ না রাখার পরামর্শ দেন। 

“তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য জায়গায়ও গীতা পাঠ রাখা হয়েছে। বিষয়টি এমপি স্যারের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতের আমির আলমগীর হোসেনকে জানিয়ে অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী গীতা পাঠ সম্পন্ন করা হয়।”

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অনুবাদসহ গীতা পাঠ করেন। তবে এসময় সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠান শুরুর পর তিনি যোগ দেন। তবে উপজেলা জামায়াতের আমির শুরু থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ছড়িয়ে পড়া ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুস সবুর ইউএনওর কাছে জানতে চান- গীতা পাঠ না করার নির্দেশনা এমপি দিয়েছিলেন কি-না? জবাবে ইউএনও বলেন, ‘জেলা ও অন্যান্য উপজেলাতেও গীতা পাঠ হয়েছে, তাই তানোরেও কর্মসূচিতে এটি রাখা হয়।’ এসময় উপস্থিত একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সব ধর্মের অংশগ্রহণ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, “বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ধর্মীয় পাঠের বিষয় নির্ধারণ করে থাকে। যখন সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এল, তখন থেকেই শুধু কোরআন তেলাওয়াত হত, বাকিগুলো তেলাওয়াত হত না।”

জাতীয় সংসদের শপথ অনুষ্ঠানে শুধু কোরআন তেলাওয়াত হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সংসদের চর্চা ও সংবিধান অনুসরণ করতে চাই। তানোরে গীতা পাঠ হয়েছে কি-না, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি ঢাকা থেকে এসে গিয়েছি, দেরি করে। আমার সামনে তেলাওয়াত হয়নি।”

সংসদ সদস্যের এমন নির্দেশনার নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। বলেছেন, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ বন্ধ রাখার নির্দেশ অযৌক্তিক।

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অবদান রয়েছে। তাই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সব ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ থাকা উচিত।”