কুড়িগ্রামে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙ্গে ভারী যান চলাচল বন্ধ

সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় মাঝে মাঝেই এরকম ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Oct 2023, 12:27 PM
Updated : 23 Oct 2023, 12:27 PM

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙ্গে গেছে; সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে ভারী যান চলাচল। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থলবন্দরের ব‍্যবসায়ীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

১৩৬ বছরের পুরোনো মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুটির পাটাতন রোববার রাতে ভেঙ্গে যায় বলে জানিয়েছেন সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি জানান, সেতুটির বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙ্গে গেছে এবং ট্যাংক জাম (লোহার পাতি) খুলে গেছে। তবুও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। তারই অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রবেশ ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙ্গে দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘদিন পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে ভূরুঙ্গামারী দক্ষিণের তিন ইউনিয়ন ও কচাকাটা ও মাদারগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সচল করা হয়।

নির্মাণকালে সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। সে মতে সোনাহাট সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। নড়বড়ে সেতুটি যেকোনো সময় ভেঙ্গে পড়ে ঘটতে পাড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুটি পাশে দুধকুমার নদের দক্ষিণে ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার লম্বা পিসি গার্ডার সোনাহাট সেতুর নির্মাণ কাজ চলছে। ওই সেতুটির নির্মাণ কাজের মেয়াদ গত অর্থ বছরে শেষ হলেও অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় রবিউল ইসলাম বলেন, এই রেলসেতু দিয়ে পাথর বোঝাই ট্রাক যাওয়ার সময় সেতুটি থরথর করে কাঁপতে থাকে। এছাড়া সরু সেতু দিয়ে যখন একটি ট্রাক যায় তখন পাশ দিয়ে অন্য যানবাহন যাওয়ার জায়গা থাকে না। এতে সেতুর দুই প্রান্তে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সোনাহাট স্থলবন্দর সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক বলেন, প্রতিমাসে সড়ক বিভাগ সেতুটি মেরামত করে থাকে। এবার হয়ত করেনি তাই পাটাতনটি ভেঙ্গে গেছে। আর এই সেতু দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি না চলে, স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে রাজস্ব হারাবে সরকার।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, সেতুটি দিয়ে রোববার রাতে ওভার লোডের ট্রাক যাওয়ার কারণে পাটাতন ভেঙ্গে গেছে। মেরামতের কাজ চলছে, সন্ধ্যার মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।

বেইলি সেতুটি প্রায় ১৩৬ বছরের পুরাতন হওয়ায় মাঝে মাঝেই এরকম ঘটনা ঘটে; তবে ১০ টনের অধিক লোড নিয়ে যান চলাচল না করতে সাইনবোর্ড দেওয়া আছে বলে তিনি জানান।

এরপরও ৩০-৪০ টন লোড নিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলছে; যার ফলে সেতুটিতে মাঝেমধ্যেই যান চলাচল ব্যাহত হয়ে থাকে বলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ কর্মকর্তা জানান।