Published : 24 Jul 2026, 05:03 PM
তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় ১১টি পরিবারের বসতভিটাসহ প্রায় ৫০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর গত কয়েক দিনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী নদীশাসনের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় প্রতি বর্ষায় তাদের ভাঙনের শিকার হতে হচ্ছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কয়েক দিনের ভাঙনে ১১টি পরিবারের বসতভিটা ও প্রায় ৫০ একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জরুরি ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতীরবর্তী অনেক পরিবার ঘরের টিন, কাঠ, দরজা-জানালা ও ইট খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। যাদের বসতভিটা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে, তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা হাফিজা বেগম বলেন, “এক রাতের মধ্যে আমাদের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, সেটাই বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে দ্রুত সহায়তা চাই।”
কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলছিলেন, “আমার প্রায় পাঁচ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। ওই জমির ফসল দিয়েই পরিবারের সারা বছরের খরচ চলত। এখন আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক কৃষক সর্বস্ব হারাবে।”
কাচারিপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন দ্রুত জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
আরেক বাসিন্দা আউয়াল মিয়া বলেন, “নদীভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে আরও শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর দাবি জানান।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে চার হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।